‘চিকেনস নেক’-এর সুরক্ষায় বড় মাস্টারস্ট্রোক! শিলিগুড়ি করিডরের জন্য ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ কেন্দ্রের

ভারতের কৌশলগত ও নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডরের সুরক্ষাকে সুদৃঢ় করতে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই করিডরের জন্য ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি নিজের ফেসবুক পোস্টে এই বরাদ্দের কথা ঘোষণা করে করিডরটির ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন।
নতুন এই রাস্তাটি ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের সমান্তরালে তৈরি হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগ যেমন অত্যন্ত সহজ হবে, তেমনই দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাও বহুলাংশে সুরক্ষিত হবে। শিলিগুড়ির অদূরে অবস্থিত ‘চিকেন নেক’ অংশটি ভারতের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর। চিন, বাংলাদেশ, ভুটান এবং নেপালের মতো প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে ভূরাজনৈতিক সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই করিডরটি ভারতের সীমান্ত সুরক্ষায় বড় ভূমিকা পালন করবে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, চার লেনের এই নতুন করিডর নির্মিত হলে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে ভারতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ আরও সুগম হবে। এর পাশাপাশি বাগডোগরা, নকশালবাড়ি, খারিবাড়ি ও পানিটাঙ্কির দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট থেকে মুক্তি মিলবে। বাগডোগরা বিমানবন্দর এবং অন্যান্য আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলির সঙ্গে যোগাযোগ উন্নত হওয়ার ফলে চা সহ স্থানীয় উৎপাদিত পণ্যগুলি দ্রুত দেশের বড় বাজারগুলিতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
প্রকল্পের ব্লু-প্রিন্ট অনুযায়ী, এই নতুন করিডরে তিনটি বড় সেতু, একটি রোড ওভারব্রিজ, পাঁচটি হাতি চলাচলের সুরক্ষিত আন্ডারপাস এবং রাস্তার দু’পাশে সার্ভিস রোড রাখা হচ্ছে। শুধু সড়কপথ নয়, সম্প্রতি বারাণসী থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত দ্রুতগতির রেল করিডোর, ৩৫ কিমি দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ রেললাইন এবং মালদা থেকে এনজেপি পর্যন্ত চতুর্থ রেল ট্র্যাক স্থাপনেরও অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। মূলত বিহারের গালগালিয়া থেকে চিকেনস নেকের মধ্য দিয়ে একটি দ্বিতীয় ও সমান্তরাল করিডোর নির্মাণ করে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির যাতায়াত এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে একেবারে ত্রুটিহীন করে তুলতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার।