“ভাজা মাছ-ডিমে ছত্রাক, পশুখাদ্যের বেসন!”-রেস্তোরাঁয় হানা দিতেই বেরিয়ে এল ভয়ানক সত্য

প্লেটভর্তি সুস্বাদু খাবার খাচ্ছেন, অথচ অজান্তেই শরীরে প্রবেশ করছে বিষ! পর্যটনকেন্দ্রে ঘুরতে গিয়ে রেস্তোরাঁর খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকলে এবার অন্তত দুবার ভাবুন। উত্তর ২৪ পরগনার পর এবার বাঁকুড়ার খাতড়া মহকুমা সদর এবং জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র মুকুটমণিপুরের একাধিক হোটেল ও রেস্তোরাঁতেও ধরা পড়ল চরম অস্বাস্থ্যকর ও বিপজ্জনক ছবি। জেলা প্রশাসনের আচমকা এই অভিযানে প্রকাশ্যে এসেছে এক ভয়ংকর চিত্র।

সোমবার রাতে খাতড়া বাজারের কমবেশি ১৫টি মিষ্টির দোকান, হোটেল ও রেস্তোরাঁয় একযোগে অভিযান চালায় জেলা প্রশাসনের বিশেষ দল। এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) চিরন্তন প্রামাণিক, খাতড়ার মহকুমা শাসক তাপস ভট্টাচার্য, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক আখতার আলি-সহ জেলা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকেরা। মুকুটমণিপুরের একাধিক নামজাদা হোটেলেও এই তল্লাশি চালানো হয়।

কী কী অনিয়ম ধরা পড়ল?

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, খাতড়ার একটি রেস্তোরাঁয় ফ্রিজে রাখা মাংসের বৈধ কোনো বিল বা উৎস দেখাতে পারেননি মালিক। অন্য একটি দোকানে ভাজা মাছ এবং ডিমের গায়ে স্পষ্ট ছত্রাক দেখতে পান আধিকারিকেরা। কিছু রেস্তোরাঁয় রান্নায় ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রাসায়নিক রং ও কৃত্রিম সুগন্ধি। শুধু তাই নয়, বেশ কয়েকটি জায়গায় বাণিজ্যিক ব্যবহারের বদলে গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার ব্যবহার করতে দেখা যায়, যেগুলি তৎক্ষণাৎ সরিয়ে নেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়।

মুকুটমণিপুরের হোটেলগুলির পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। অনেক জায়গায় এমন খাদ্যসামগ্রী পাওয়া গেছে যার প্যাকেটে কোনো ব্যাচ নম্বর বা মেয়াদ শেষের তারিখ (Expiry Date) পর্যন্ত উল্লেখ ছিল না। একটি হোটেলে তো একেবারে পশুখাদ্যের জন্য নির্ধারিত বেসন রান্নায় ব্যবহার করার মতো মারাত্মক অভিযোগও সামনে এসেছে। প্রায় সবকটি হোটেলের হেঁশেলের বেহাল ও অপরিচ্ছন্ন দশা দেখে চক্ষু চড়কগাছ হয়েছে আধিকারিকদের।

সাত দিনের আল্টিমেটাম ও কড়া আইনি পদক্ষেপ

যে সমস্ত দোকান ও রেস্তোরাঁয় এই অনিয়মগুলি ধরা পড়েছে, তাদের প্রত্যেককে কঠোর ভাষায় নোটিশ ধরানো হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে সমস্ত ত্রুটি সংশোধন করে খাদ্য নিরাপত্তার নিয়ম মেনে ব্যবসা করার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

অতিরিক্ত জেলাশাসক চিরন্তন প্রামাণিক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো রকম আপস করা হবে না। যাঁদের বিরুদ্ধে বারবার অনিয়মের অভিযোগ উঠবে, তাঁদের বিরুদ্ধে ফুড সেফটি বা খাদ্য সুরক্ষা আইন অনুযায়ী কঠোর অ্যাডজুডিকেশনের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। ছুটির দিনে পাহাড়ে বা জলামুখী বেড়াতে গিয়ে বাইরের খাবারে পেট ভরানোর আগে সাবধান না হলে বড়সড় বিপদের মুখে পড়তে হতে পারে সাধারণ মানুষকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *