আউট দিয়েও ফিরিয়ে আনা হলো প্যাভিলিয়ন থেকে! জীবনদান পেতেই বিধ্বংসী ঝড়ে ম্যাচ জিতিয়ে ইতিহাস গড়লেন এই তারকা ব্যাটার?

সিপিএল (CPL 2026)-এর ২৩ নম্বর ম্যাচে এমন এক অভাবনীয় নাটক ও রোমাঞ্চ দেখা গেল, যা নিয়ে এখন সরগরম ক্রিকেট বিশ্ব। বার্বাডোস ট্রাইডেন্টস এবং সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টসের মধ্যকার হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে থার্ড আম্পায়ারের একটি সিদ্ধান্ত পুরো খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিল। আম্পায়ারের অদ্ভুত সিদ্ধান্তে প্রথমে আউট হয়ে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ পেলেও, পরে তাঁকে আবার ব্যাটিংয়ে ডেকে পাঠানো হয়। আর সেই দ্বিতীয় সুযোগটিকে ১০০ শতাংশ কাজে লাগিয়ে নিজের দলের জয় নিশ্চিত করে ম্যাচের সেরার পুরস্কার জিতে নেন সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের ওপেনার জনসন চার্লস।
চতুর্থ ওভারেই ঘটেছিল নাটক!
ম্যাচে ২১৮ রানের পাহাড়প্রমাণ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেছিল সেন্ট কিটস। দলের ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই বড় বিপদের মুখে পড়েছিল তারা। ওভারের পঞ্চম বলটি ছিল একটি হাই ফুল-টস, যে বলে ক্যাচ তুলে আউট হয়ে যান জনসন চার্লস। থার্ড আম্পায়ার প্রথমে তাঁকে আউট বলে ঘোষণা করলেও সঙ্গে সঙ্গেই সেই সিদ্ধান্ত ঘিরে মাঠে তীব্র জল্পনা ও বিতর্ক শুরু হয়।
প্যাট্রিয়টস দলের পক্ষ থেকে আম্পায়ারের ওই আউটের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে থার্ড আম্পায়ার বাধ্য হন ফের একবার সেই বলের ফুটেজ রিভিউজ করতে। নিখুঁত পর্যালোচনার পর আম্পায়ার বুঝতে পারেন যে ডেলিভারিটি ব্যাটারের কোমর থেকে বেশ উঁচুতে ছিল। সঙ্গে সঙ্গে ভুল শুধরে সেই বলটিকে ‘নো বল’ ঘোষণা করা হয় এবং প্যাভিলিয়নে ফিরে যাওয়া জনসন চার্লসকে সসম্মানে পুনরায় ব্যাটিংয়ে ডেকে পাঠানো হয়।
২৬ রানে জীবন পেয়ে ঝোড়ো ইনিংস ও জয়
যখন জনসন চার্লসকে আউট দেওয়া হয়েছিল, তখন ব্যক্তিগতভাবে তিনি মাত্র ২৬ রান (৩টি ছক্কার সাহায্যে) করেছিলেন। কিন্তু জীবন ফিরে পাওয়ার পর তাঁর ব্যাটে যেন সুনামি বয়ে যায়! ক্রিজে ফিরে তিনি আরও ৫২ রান যোগ করেন। সবমিলিয়ে মাত্র ৪৫ বলে ৭টি চোখধাঁধানো ছক্কা ও ৬টি চারের সাহায্যে তিনি ঝোড়ো ৭৬ রানের এক ঐতিহাসিক ইনিংস খেলেন।
শুধু তাই নয়, এই বিস্ফোরক ইনিংস খেলার পথে তিনি ওপেনিং পার্টনার কাইল মায়ার্সের সঙ্গে মিলে শতরানের একটি দুর্দান্ত জুটি (১১২ রান) গড়ে তোলেন, যা দলকে অনায়াস জয়ে পৌঁছে দেয়। ক্রিকেটের বাইশ গজে এমন নাটকীয় প্রত্যাবর্তন যে বিরল, তা বলাই বাহুল্য।