রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য! জেলের ভেতরে বন্দীর গুলিতে লুটিয়ে পড়লেন কারারক্ষী, অস্ত্র এল কোথা থেকে?

মধ্যপ্রদেশের রাইসেন জেলা কারাগার থেকে এক চাঞ্চল্যকর ও অভূতপূর্ব ঘটনা সামনে এসেছে। জেলখানার কঠোর নিরাপত্তার বেষ্টনী ভেঙে এক বিচারাধীন বন্দী কারারক্ষীকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছেন। এই ঘটনায় গুরুতর আহত কারারক্ষীকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোপালে রেফার করা হয়েছে, এবং তাঁর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার সকালে। রাইসেন জেলা কারাগারে সেদিন স্কুলপড়ুয়াদের নিয়ে একটি রক্ষা বন্ধন উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানের জন্য ফল নিয়ে জেলের মূল গেটের কাছে এসেছিলেন নিलेश ঠাকুর (যিনি নিलेश নির্ভেষী নামেও পরিচিত) নামের এক বন্দী। তিনি বারেলির কাছে দিমাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারায় (হত্যচেষ্টা) বিচারাধীন বন্দী হিসেবে কারাগারে বন্দি ছিলেন।
তথ্য অনুযায়ী, ফল নিয়ে আসার পর বন্দী নিलेश জেলের গেট খুলে তাকে বাইরে বের করে দেওয়ার জন্য জোর করতে শুরু করে। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই কারারক্ষী দিগ্বিজয় সিং তোমারের সঙ্গে তার তীব্র কথা কাটাকাটি ও বিতর্ক বাঁধে। বিবাদের এক পর্যায়ে হঠাৎই ক্ষিপ্ত হয়ে ওই বন্দী দিগ্বিজয় সিংকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দেয়। গুলিটি প্রহরীর কোমরের নিচের অংশে গিয়ে লাগে।
গুলি চালনার শব্দে এবং প্রহরীর লুটিয়ে পড়ার ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে পুরো জেল চত্বরে চরম হ্রদকম্প ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সহকর্মীরা দ্রুত আহত কারারক্ষীকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা এক্স-রে ও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে দ্রুত ভোপালে স্থানান্তরিত করেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন
এই ঘটনার পর পরই রাজ্যজুড়ে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। প্রশ্ন উঠছে—দেশের অত্যন্ত সুরক্ষিত ও কড়া নজরদারির জায়গা হিসেবে পরিচিত একটি জেলা কারাগারের ভেতরে বন্দীর হাতে বন্দুক বা আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছাল কী করে? অস্ত্রটি কি জেলের ভেতরে লুকিয়ে আনা হয়েছিল, নাকি বাইরে থেকে কেউ সরবরাহ করেছে? জেল প্রশাসনের তল্লাশি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কি তবে বড়সড় কোনো গলদ রয়েছে?
ঘটনার পর থেকে জেল চত্বরে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পুলিশ এবং কারা প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন এবং অস্ত্র প্রবেশের উৎস সন্ধানে জোরদার তদন্ত শুরু হয়েছে।