শিশুর পুরুষাঙ্গে মুখ লাগানোই সবচেয়ে বড় অপরাধ! ওরাল সেক্স বা গভীর অনুপ্রবেশ ছাড়াই মিলবে কঠিন সাজা

শিশুর পুরুষাঙ্গে যৌন উদ্দেশ্যে মুখ লাগানো বা চুম্বন করাও সরাসরি পেনিট্রেটিভ বা অনুপ্রবেশমূলক যৌন নির্যাতনের আওতাভুক্ত বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল কেরল হাইকোর্ট। একটি মামলার শুনানি চলাকালীন আদালত সাফ জানিয়েছে, এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে ওরাল সেক্স বা গভীর অনুপ্রবেশের কোনো প্রয়োজন নেই, শুধুমাত্র যৌনাঙ্গে মুখের সংস্পর্শ ঘটানোই আইনের শর্ত পূরণের জন্য যথেষ্ট। এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে ৬১ বছরের এক বৃদ্ধের ২০ বছরের জেলের সাজা বহাল রেখেছে বিচারপতি এ বদরুদ্দিনের বেঞ্চ।

ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি। অভিযোগ ওঠে, কেরালার মেঝুভেলি পঞ্চায়েতের কল্লানমোডিতে নিজের দোকানঘরে ১৪ বছর ৬ মাস বয়সি এক নাবালককে প্রথমে মদ ও গাঁজার বিড়ি দেন অভিযুক্ত। এরপর ওই একই দিনে নাবালকের ওপর দু’বার যৌন নির্যাতন চালানো হয়। আদালতের কাছে নাবালক তার গোপন জবানবন্দি দেয় এবং স্কুল সার্টিফিকেটের নথির মাধ্যমে তার বয়স পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নিশ্চিত করা হয়। বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন সরকারি কৌঁসুলি মোট ৯ জন সাক্ষীকে জেরা করেন এবং সমস্ত তথ্যপ্রমাণ পেশ করেন। এর ভিত্তিতে পথনমথিট্টার ফাস্ট ট্র্যাক স্পেশাল কোর্ট অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করে। এছাড়াও পকসো আইন এবং জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্টের অন্যান্য ধারায় অতিরিক্ত সাজা ও জরিমানা ধার্য করা হয়। সমস্ত সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

হাইকোর্টে কী যুক্তি দিয়েছিল অভিযুক্তপক্ষ?
নিম্ন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে কেরল হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিযুক্ত ব্যক্তি। তাঁর আইনজীবী আদালতে দাবি করেন যে, ভুক্তভোগী নাবালকের কিছু আচরণগত সমস্যা ছিল এবং তাঁকে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। পাশাপাশি, প্রসিকিউশনের হাতে অপরাধ প্রমাণের মতো যথেষ্ট ও শক্তপোক্ত প্রমাণ নেই বলেও যুক্তি দেওয়া হয়। এমনকি অভিযুক্তের বয়স ৬১ বছর হওয়ায় তাঁর বয়সের কথা বিবেচনা করে সাজায় কিছু সহানুভূতি দেখানোরও আবেদন জানানো হয়।

অন্যদিকে, প্রসিকিউশন পক্ষ ভুক্তভোগীর অকাট্য বয়ানকে সামনে রেখে অভিযুক্তের আর্জি পুরোপুরি খারিজ করার জোরালো দাবি তোলে। প্রসিকিউশন জানায়, নির্যাতিতকে জেরা করার সময় মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর দাবির সমর্থনে আসামিপক্ষ কোনো নির্দিষ্ট বা যৌক্তিক প্রশ্ন করতে পারেনি।

আইনের কী ব্যাখ্যা দিল আদালত?
মামলাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে গিয়ে কেরল হাইকোর্ট পকসো আইনের (POCSO Act) ৩(d) ধারার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা প্রদান করে। আদালত জানায়, এই ধারায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে— কোনো ব্যক্তি যদি শিশুর পুরুষাঙ্গ, যোনি, মলদ্বার বা মূত্রনালিতে নিজের মুখ লাগান, কিংবা শিশুকে তা করতে বাধ্য করেন, তবে তা সরাসরি পেনিট্রেটিভ বা অনুপ্রবেশমূলক যৌন নির্যাতনের আওতায় পড়বে। ভুক্তভোগীর বয়ান অনুযায়ী অভিযুক্ত দু’বার তাঁর পুরুষাঙ্গে চুম্বন করেছিলেন।

আদালত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেয় যে, শিশুর নির্দিষ্ট যৌনাঙ্গে অভিযুক্তের মুখ লাগানোই পকসো আইনের ৩(d) ধারার অপরাধ প্রমাণের জন্য একেবারে যথেষ্ট। এর জন্য ওরাল সেক্স বা গভীর অনুপ্রবেশের আবশ্যকতা নেই। ট্রায়াল কোর্টের দেওয়া সাজা যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত ও আইনসম্মত বলে রায় দিয়ে হাইকোর্ট সমস্ত ফৌজদারি আবেদন খারিজ করে দেয় এবং দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির ২০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা বহাল রাখে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *