পুলের পরপুল ভাসল, সমস্ত রাস্তা বন্ধ! উত্তরপ্রদেশের চিত্রকূটে বিধ্বংসী বন্যায় চরম বিপর্যয়

উত্তরপ্রদেশের চিত্রকূটে প্রলয়ঙ্করী রূপ ধারণ করেছে নদী। লাগাতার বৃষ্টি ও জলস্ফীতির জেরে চিত্রকূটে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে মন্দাকিনী নদীর জলস্তর বিপদসীমার অনেক ওপর দিয়ে বইতে শুরু করায় গোটা জেলা জুড়েই ত্রাহি ত্রাহি রব উঠেছে। প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রামঘাটে মন্দাকিনীর বিপৎসীমা ১২৬ মিটার হলেও, বর্তমানে নদীর জলস্তর লাফিয়ে বেড়ে ১৩৫ মিটার পার করেছে। ২০০৩ সালের বন্যাকেও ছাপিয়ে যাওয়া এই ভয়াবহতায় কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।

বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা ও রেল চলাচলেও প্রভাব:

প্লাবনের জেরে চিত্রকূটের সঙ্গে অন্যান্য জেলার প্রধান যোগাযোগ মাধ্যমগুলি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বাंदा, কৌশাম্বী, প্রয়াগরাজ, ঝাঁসি এবং ফতেপুরের সংযোগকারী রাস্তাগুলিতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্পর্শকাতর ও বর্ডার এলাকাগুলিতে পুলিশি ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। শুধু সড়ক পথই নয়, এর প্রভাব পড়েছে রেল চলাচলেও। মন্দাকিনীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় চিত্রকূট ধাম রেল স্টেশনের সেতু দিয়ে ট্রেনগুলি অত্যন্ত সতর্ক ও শ্লথ গতিতে পার করানো হচ্ছে। পাশাপাশি মানিকপুর-সাতনা রেললাইনেও ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

ব্যাপক উদ্ধারকাজ ও প্রশাসনের তৎপরতা:

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আসরে নেমেছে জেলা প্রশাসন। রামঘাটের বিখ্যাত মতगजেন্দ্রনাথ মন্দির ও নদীর চরে জলবন্দী হয়ে থাকা মানুষদের উদ্ধার করতে মোটরবোট ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। নদী তীরবর্তী মারকুন্ডি, মানিকপুর ও কার্ভি থানা এলাকায় কড়া সতর্কতা (Alert) জারি করা হয়েছে। আকাশপথে সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে দুটি বিশেষ হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে, যার মাধ্যমে বন্যাকবলিত এলাকার ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। চিত্রকূট ধামের কমিশনার ও ডিআইজি নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুরো উদ্ধারকাজের তদারকি করছেন। প্রশাসন সাধারণ মানুষকে নদী থেকে দূরে থাকার এবং গুজবে কান না দিয়ে নিরাপদে থাকার আর্জি জানিয়েছে।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *