নেপালের মতো বড় বিপর্যয়ের অপেক্ষা! কাশ্মীরের ৫টি হ্রদকে ‘টাইম বোমা’ বলে সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা

নেপালের ভয়াবহ হড়পা বান ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ভারতের জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে অত্যন্ত উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এল। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, কাশ্মীরের উচ্চ পাহাড়ি অঞ্চলের পাঁচটি প্রধান গ্লেসিয়ার বা হিমবাহ হ্রদ বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো মুহূর্তে এই হ্রদগুলি ফেটে বিশাল আকার ধারণ করতে পারে, যা কার্যত টাইম বোমার মতো বড় কোনো বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ঝুঁকিতে থাকা সেই ৫টি হ্রদ কোনগুলো?

‘জার্নাল অফ গ্লেসিওলজি’-তে প্রকাশিত কাশ্মীর ইউনিভার্সিটির একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় ১৯৯২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ স্যাটেলাইট ডেটা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে যে ৫টি হ্রদকে সবচেয়ে বিপজ্জনক বা ‘হাই-রিস্ক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলি হলো:

  • ব্রামসার ও চিরসার (কুলगाम জেলা): গ্লেসিয়ারের খুব কাছাকাছি থাকায় এই হ্রদগুলি অত্যন্ত দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে এবং দক্ষিণ কাশ্মীরের জনবসতিপূর্ণ নিচু এলাকাগুলির জন্য সরাসরি বড় হুমকি তৈরি করেছে।

  • নান্দকোল ও গঙ্গাবল (গান্দরবল জেলা): মাউন্ট হারমুখের তলদেশে অবস্থিত এই হ্রদগুলির আয়তন ও জলের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি। এর মধ্যে গঙ্গাবল জলের পরিমাণের দিক থেকে বৃহত্তম, যা নিচের দিকে থাকা একাধিক হাইড্রোপ্রজেক্ট ও পাম্বারি এলাকার জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক।

  • ভাগসার (শোপিয়ান জেলা): এই হ্রদটি ঠিক গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পরিকাঠামো, রাস্তা ও সেতুর ওপরের পাহাড়ি অংশে অবস্থিত।

বিপদ বাড়াচ্ছে গ্লোবাল ওয়ার্মিং ও ভূমিকম্প:

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলগুলিতে দ্বিমুখী ঝুঁকি রয়েছে। একদিকে বিশ্ব উষ্ণায়নের (Global Warming) প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক দ্রুত গলে যাচ্ছে হিমবাহ, যার ফলে হ্রদগুলিতে হু হু করে বাড়ছে জলের চাপ। অন্যদিকে, কাশ্মীর উপত্যকা অত্যন্ত সংবেদনশীল ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হওয়ার কারণে মাঝারি বা তীব্র মাত্রার ভূকম্পনে এই হ্রদগুলির প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া মাটির দেওয়াল বা বাউন্ডারি ভেঙে যাওয়ার চরম আশঙ্কা রয়েছে। ঠিক যেমনটা অতীতে নেপালে দেখা গেছে, জলরাশি আচমকা নিচের উপত্যকায় আছড়ে পড়লে নিমেষেই তছনছ হয়ে যেতে পারে বিস্তীর্ণ জনপদ। বিজ্ঞানীরা দ্রুত এই গ্লেসিয়ার লেকগুলি নিয়ে প্রয়োজনীয় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *