“মুরগি চোর” পাকড়াও করতে গিয়ে হুলুস্থুল কাণ্ড! ১০ ফুটের অজগর দেখতে ভিড় জমাল এলাকাবাসী

গৃহস্থের বাড়ি থেকে মাঝেমধ্যেই মুরগি হাওয়া হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু কে বা কারা এই চুরির সঙ্গে যুক্ত, তা কিছুতেই বোঝা যাচ্ছিল না। অবশেষে শনিবারে ধরা পড়ল আসল ‘মুরগি চোর’! তবে সে কোনো সাধারণ চোর নয়, একেবারে আস্ত এক বিশাল অজগর সাপ। রাতের অন্ধকারে খাস গৃহস্থের বাড়িতে ঢুকে মুরগি সাবার করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে যায় সে। আর তাকে পাকড়াও করার পর যা কাণ্ড ঘটল, তা জানলে চমকে উঠবেন।
ঠিক কী ঘটেছিল? ঘটনাটি ঘটেছে মাটিয়ালি ব্লকের মূর্তি বনবস্তি এলাকায়। ওই এলাকার বাসিন্দা অজিত রায়ের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরেই মাঝেমধ্যে মুরগি চুরি যাচ্ছিল। শনিবার রাতে মুরগির ছটফটানি ও আওয়াজ শুনে বাড়ির লোকজনের সন্দেহ হয়। তাঁরা টর্চ জ্বেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, একটি বিশালকায় অজগর সাপ মুরগির খাঁচার পাশে ওঁেত পেতে রয়েছে এবং দিব্যি মুরগি গিলে খাচ্ছে!
বিশাল আকৃতির ওই সাপটিকে সামনে দেখে প্রথমে ভয়ে রীতিমতো থ হয়ে যান বাড়ির সদস্যরা। সাপটিকে তারা নিজেরা ধরার সাহস না পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে খবর দেন গরুমারা জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষের কাছে।
বনকর্মীদের তৎপরতা ও অজগর উদ্ধার: খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছন মূর্তি বিটের বনকর্মীরা। বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অজগরটি লম্বায় প্রায় দশ ফুট! সুকৌশলে ও অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সাপটিকে বন্দি করেন বনকর্মীরা। এর পর প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে সাপটিকে কোনো রকম ক্ষতি না করে নিরাপদে গরুমারা জাতীয় উদ্যানের গভীর জঙ্গলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এই অদ্ভুত অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ির মালিক অজিত রায় জানান, এতদিন অন্যের বাড়িতে মুরগি বা হাঁস চুরির কথা শুধু শুনেছিলেন, কিন্তু নিজের বাড়িতে এভাবে অজগর উদয় হবে তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি।
অন্যদিকে, এই বিষয়ে বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ স্বরূপ মিত্রের মত, “ক্রমাগত বনবস্তিগুলি জঙ্গলের আরও কাছাকাছি চলে আসছে। চাষের জন্য বাড়তি জমি পেতে জঙ্গল কেটে জঙ্গল সাফ করে দেওয়ার ফলেই বন্যজন্তুগুলির প্রাকৃতিক বাসস্থান সংকুচিত হচ্ছে, আর তারা বাধ্য হয়ে লোকালয়ে চলে আসছে।”