উৎসবের আগেই কি আরও মহার্ঘ হতে চলেছে মিষ্টি? চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের

উৎসবের মরসুমের ঠিক আগে সাধারণ মানুষের চিন্তা বাড়িয়ে হু হু করে বাড়ছে চিনির দাম। আর এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বাজারে চিনির জোগান স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্র সরকার জরুরি ভিত্তিতে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনে সাময়িকভাবে কাঁচা চিনি আমদানির কথাও ভাবছে সরকার।
চিনির উৎপাদন হ্রাসের আসল কারণ কী? কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী জানিয়েছেন, আখের ‘রেড রট’ বা লাল পচা রোগ এবং প্রতিকূল আবহাওয়া তথা এল নিনো (El Nino)-র প্রভাবে কেবল ভারতেই নয়, গোটা বিশ্বজুড়েই আখের চাষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে চিনির উৎপাদনে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একেবারে অপ্রত্যাশিতভাবে ‘রেড রট’ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। তার ওপর এল নিনোর কোপ তো রয়েছেই। এর জেরে সামগ্রিকভাবে কৃষিপণ্যের উৎপাদন কমেছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন এবং দ্রুত পদক্ষেপ করছি। আমাদের দেশে বছরে প্রায় ২৮০ লক্ষ টন চিনির প্রয়োজন হয়, এবং বর্তমানে আমাদের হাতে ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টনের মতো চিনি উদ্বৃত্ত রয়েছে।”
আমদানি ও দাম বৃদ্ধির চিত্র: সামনেই একাধিক বড় উৎসব ও পুজো রয়েছে। সেই কথা মাথায় রেখেই যাতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়, তার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্র। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জোগান ঠিক রাখতে সাময়িকভাবে কাঁচা চিনি আমদানির বিকল্প খোলা রাখা হয়েছে।
উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাজারে চিনির দাম সম্প্রতি বেশ কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। গত ২০ জুলাই যেখানে প্রতি কেজি চিনির দাম ছিল ৪৮.১৮ টাকা, সেটাই এক মাসের ব্যবধানে ২০ আগস্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৫৫.৭০ টাকায়।
রাজনৈতিক তরজা: অন্যদিকে, চিনির উৎপাদন ও দাম বৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন বিরোধীরা। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা অভিযোগ করেছেন যে, আখ চাষিরা উৎপাদিত ফসল বিক্রি করেও সঠিক সময়ে তার দাম পাচ্ছেন না। একসময়ে ভারত যে দেশ থেকে চিনি বিদেশে রপ্তানি করত, আজ পরিস্থিতি বদলানোর কারণে দেশবাসীকে চিনির আমদানির দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে—তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।