রবিবার সকালেও বুলডোজার নিয়ে হাজির পুলিশ! টালিগঞ্জে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নির্দেশে বড় ধাক্কা দিল হাইকোর্ট

রবিবারের ছুটির দিনেও বসল কলকাতা হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ। টালিগঞ্জে একটি ‘বেআইনি নির্মাণ’ ভাঙার ওপর কড়া নির্দেশিকা জারি করে স্থগিতাদেশ দিল আদালত। বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর একক বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, বাড়ি ভাঙার আগে নিয়ম অনুযায়ী মামলাকারীকে অন্তত ৩০ দিন সময় দিতে হতো কলকাতা পুরনিগমকে (KMC)। কিন্তু সেই আইনি প্রক্রিয়া না মেনেই তড়িঘড়ি বুলডোজার নামানো হয়েছিল, যা আইনের পরিপন্থী।
ঠিক কী ঘটেছিল? রবিবার সকালে টালিগঞ্জের সতীশ মুখার্জি রোডের ৫১৫/১এ এবং ৫১/১বি ঠিকানার একটি বাড়ি ভাঙার জন্য বুলডোজার নিয়ে পুলিশ ও পুরনিগম কর্মীরা পৌঁছে যান এবং ভাঙার কাজও শুরু হয়ে যায়। এর বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে মামলা দায়ের করেন বাড়ির বাসিন্দা অনিতা দাস।
মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে জানান, কেএমসি-র ‘স্পেশাল অফিসার (বিল্ডিং)’ গত ১৯ অগস্ট বাড়ি ভাঙার নির্দেশ দেন এবং ২১ অগস্ট নোটিশ দিয়ে ২৩ অগস্টের মধ্যে বাড়ি খালি করার কথা বলা হয়। অর্থাৎ আপিল করার জন্য ন্যূনতম সময়টুকুও দেওয়া হয়নি।
আ আদালতের পর্যবেক্ষণ: শুনানিতে আদালত জানায়, ১৯৮০ সালের কলকাতা পুরনিগম আইনের ৪০০(৩) ধারা অনুযায়ী, এই ধরনের ভাঙার নির্দেশের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার আইনি অধিকার বাসিন্দার রয়েছে। কিন্তু পুরনিগম সেই অর্থবহ সুযোগ না দিয়ে তড়িঘড়ি নির্দেশ কার্যকর করতে যায়, যা আদালতের চোখে আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
উল্লেখ্য, পুরনিগমের নোটিশে দাবি করা হয়েছিল যে সম্পত্তি দুটি ওয়াকফ বোর্ডের অধীনে নিবন্ধিত এবং এগুলি ‘গ্রেড-১’ ঐতিহ্যবাহী স্থানের অংশ। এই অঞ্চলেই টিপু সুলতানের সঙ্গে জড়িত ঐতিহাসিক মসজিদ ও সমাধি রয়েছে। আপাতত হাইকোর্টের এই স্থগিতাদেশের ফলে ওই নির্মাণ ভাঙার কাজ বন্ধ রয়েছে।