“পরের জন্মে ডাক্তার হয়েই ফিরব!” নিট পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে আত্মঘাতী তরুণ, চিরকুটে শেষ বার্তা

সংবাদ সম্পাদক ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে এক মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারালেন ১৯ বছর বয়সী নিট (NEET) পরীক্ষার্থী সুরজ সুভাষ শিন্ডে। সর্বভারতীয় এই প্রবেশিকা পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার হতাশা আর মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে নিজের বাড়িতেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হলেন তরুণ। মৃত্যুর আগে বাবা-মায়ের উদ্দেশে লেখা তাঁর মাত্র দুই লাইনের একটি চিরকুট এখন শোকের ছায়া ফেলেছে গোটা এলাকায়।
মাত্র দুই লাইনের চিরকুট, যা কাঁদাল সবাইকে
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত্যুর আগে সুরজ একটি চিরকুট লিখে গিয়েছেন। যেখানে তিনি লিখেছেন, “ক্ষমা করে দিও আই (মা) এবং আপ্পা (বাবা)। পরের জন্মে ঠিক তোমাদের ডাক্তার হয়ে দেখাব। নিজেদের খেয়াল রেখো, ভাল থেকো।” চিকিৎসকের কোট পরার স্বপ্ন ছিল তাঁর চোখে, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ না হওয়ার আক্ষেপই যে শেষ পর্যন্ত তাঁকে মৃত্যুর পথে ঠেলে দিল, তা এই চিরকুট থেকেই স্পষ্ট।
কী ঘটেছিল সেদিন?
সুরজ মহারাষ্ট্রের বৈজাপুর তালুকের খাণ্ডালা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। বাড়ি থেকেই তিনি নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সম্প্রতি ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাঁর প্রাপ্ত নম্বর প্রত্যাশার চেয়ে অনেকটাই কম। পরিবারের দাবি, ফল বেরোনোর পর থেকেই সুরজ গভীর মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন।
গত বুধবার সুরজের পরিবারের সদস্যরা গ্রামের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাইরে গিয়েছিলেন। বাড়িতে একাই ছিলেন তরুণ। দুপুর দুটো নাগাদ বাড়ির লোক তাঁকে বারবার ফোন করলেও কোনো সাড়া পাননি। সন্দেহ হওয়ায় ছোট বোন দোতলায় গিয়ে দেখতে পায়, দাদার ঝুলন্ত দেহ। এরপর তড়িঘড়ি তাঁকে বৈজাপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের তদন্তে কী উঠে এল?
পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে কেবল পরীক্ষার ফলই কি এই মৃত্যুর একমাত্র কারণ, নাকি নেপথ্যে অন্য কোনো মানসিক চাপের টানাপোড়েন ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনা ফের একবার সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কঠিন বাস্তব এবং তরুণ প্রজন্মের ওপর ক্রমবর্ধমান মানসিক চাপের দিকটি সামনে আনল। সামান্য নম্বর কম হওয়ার কারণে একটা প্রাণ ঝরে যাওয়ার ঘটনায় সমাজ ও শিক্ষাব্যবস্থার ভূমিকা নিয়েও ফের নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।