মোবাইল সংযোগে কড়া লাগাম! নির্দিষ্ট সীমার বেশি সিম কার্ড রাখা আর চলবে না, জানুন সরকারের নতুন নির্দেশিকা

ভারতে একজন ব্যক্তি ঠিক কতগুলি মোবাইল সংযোগ বা সিম কার্ড নিজের নামে রাখতে পারবেন, সেই সংক্রান্ত আইন ও নিয়মকানুন আরও কঠোরভাবে কার্যকর করতে চলেছে কেন্দ্র। পিটিআই (PTI)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই যাঁদের নামে অনুমোদিত সর্বোচ্চ সীমার কোটা পূর্ণ হয়ে গেছে, সেই সমস্ত গ্রাহকদের নতুন সিম কার্ড দেওয়া সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে টেলিকম অপারেটরদের। টেলিকমিউনিকেশন বিভাগ বা DoT-এর তরফে জারি করা এই নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত মোবাইল সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা গ্রাহকদের চিহ্নিত করতে হবে এবং তাঁদের জানাতে হবে যে তাঁদের নামে অনুমোদিত সর্বোচ্চ সংখ্যক সংযোগ ইতিমধ্যেই ইস্যু করা হয়ে গেছে।
একজন ব্যক্তি সর্বাধিক কতগুলি সিম রাখতে পারেন?
সিম কার্ডের সংখ্যার এই ঊর্ধ্বসীমা অবশ্য কোনো নতুন নিয়ম নয়। আজ থেকে প্রায় এক দশক আগেই টেলিকম বিভাগ বা DoT দেশের সাধারণ নাগরিকদের জন্য জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৯টি সংযোগের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। দেশের সমস্ত টেলিকম অপারেটর ও সার্কেলের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য। তবে এর কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। যেমন—জম্মু ও কাশ্মীর, অসম এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬টি সংযোগ রাখার আলাদা নিয়ম রয়েছে।
এত দিন এই নিয়ম কাগজে-কলমে থাকলেও তা যথাযথভাবে কঠোর হাতে বাস্তবায়িত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। নতুন কোনো সিম ইস্যু করার আগে এবার থেকে টেলিকম কোম্পানিগুলিকে বাধ্যতামূলকভাবে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের বর্তমানে চালু থাকা সমস্ত সংযোগের বিষয়টি নিখুঁতভাবে যাচাই করতে হবে। ফলে নির্ধারিত সীমার কোটায় পৌঁছে যাওয়া কোনো গ্রাহকের পক্ষে আর নতুন করে অতিরিক্ত সিম কার্ড তোলা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। এছাড়া নতুন সংযোগ নেওয়ার সময় গ্রাহকদের ‘কাস্টমার অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম’ (CAF)-এ তাঁদের নামে ইতিমধ্যেই থাকা সমস্ত নম্বরের উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে, যার মধ্যে অন্য অপারেটর বা অন্য সার্কেলের সংযোগগুলিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
কীভাবে গ্রাহকদের চিহ্নিত করবে টেলিকম সংস্থাগুলি?
এই কড়া নিয়ম কার্যকর করার জন্য টেলিকম অপারেটরদের সরকারের তৈরি ‘ডিজিটাল ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম’ (DIP)-এর সাহায্য নিতে বলা হয়েছে। এই বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন টেলিকম কোম্পানির কাছে থাকা গ্রাহক-সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য এক জায়গায় একত্রিত করা হয়। এর ফলে খুব সহজেই বোঝা সম্ভব হয় যে কোনো ব্যক্তি তাঁর নামে বরাদ্দ সংযোগের কোটা ইতিমধ্যেই পূর্ণ করে ফেলেছেন কি না।
DoT এই প্ল্যাটফর্মে ছবি-ভিত্তিক শনাক্তকরণের সুবিধাও যুক্ত করেছে। ফলে কোনো গ্রাহক সিম কার্ডের নির্ধারিত সীমাতে পৌঁছে গেলে এই প্ল্যাটফর্মে তাঁর একটি প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি দেখা যাবে। নতুন সংযোগের আবেদন আসার পর অপারেটররা এই তথ্য যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেবেন। এই ব্যবস্থার সঙ্গে নিজেদের প্রক্রিয়াগুলি পুরোপুরি যুক্ত করার জন্য টেলিকম কোম্পানিগুলিকে নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
যদি ভুলবশত বা কারিগরি ত্রুটির কারণে অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত কোনো মোবাইল সংযোগ চালু হয়ে যায়, তবে সুনির্দিষ্ট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সেই সংযোগটি তাৎক্ষণিকভাবে এক দিনের জন্য স্থগিত বা ব্লক করে দেওয়ার অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। টেলিকম বিভাগের এই কঠোর পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো মোবাইল নেটওয়ার্কের অপব্যবহার রোধ করা এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা।