ফ্যানের স্পিড কমালেই কি কমে বিদ্যুৎ বিল? জানুন আপনার ঘরের ফ্যান সম্পর্কে এই অবাক করা তথ্য

গ্রীষ্ম হোক বা বর্ষা, ঘরে সিলিং ফ্যান না চললে যেন এক মুহূর্তও টেকা দায়। গরম কমলে অনেকেই ফ্যানের স্পিড কমিয়ে দেন। কিন্তু অনেকের মনেই এই প্রশ্ন ঘুরে বেড়ায় যে, ফ্যানের গতি কমালে কি সত্যিই বিদ্যুতের খরচ কমে, নাকি বিল একই আসে? ফ্যানের স্পিড এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের এই সমীকরণটি আসলে নির্ভর করে আপনার বাড়িতে ঠিক কী ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, তার ওপর।
পুরোনো রেগুলেটর বনাম নতুন প্রযুক্তি
অতীতে বাড়িতে যে বড় সাইজের রেগুলেটর ব্যবহার করা হতো, তার কার্যপদ্ধতি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। সেই প্রযুক্তিতে ফ্যানের গতি কমানোর সময় রেগুলেটর অতিরিক্ত বিদ্যুৎকে তাপে রূপান্তরিত করে মোটরে সরবরাহ করা ভোল্টেজ কমিয়ে দিত। অর্থাৎ, ফ্যানের স্পিড ৫-এ থাকুক বা ১-এ, রেগুলেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ খরচ প্রায় একই থাকত। ফলে পুরোনো রেগুলেটরযুক্ত ফ্যানের গতি কমালেও আলাদা করে কোনো বিদ্যুৎ সাশ্রয় হতো না।
তবে বর্তমানের চিত্রটা অনেকটাই বদলে গেছে। বাজারে আসা আধুনিক ইলেকট্রনিক রেগুলেটরগুলি মূলত ক্যাপাসিটর বা ট্রায়াক ভিত্তিক প্রযুক্তিতে কাজ করে। এগুলি কোনো বাড়তি তাপ উৎপন্ন না করেই সরাসরি মোটরে যাওয়া বৈদ্যুতিক প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ফলে ফ্যান কম স্পিডে চালালে বিদ্যুৎ খরচ অনেকটাই কমে যায়। পুরোনো রেগুলেটরগুলির তুলনায় এই আধুনিক ইলেকট্রনিক রেগুলেটরগুলি প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে সক্ষম।
বিএলডিসি ফ্যানের কামাল
যাঁরা প্রতি মাসে বিদ্যুতের বিল নিয়ে বেকায়দায় থাকেন, তাঁদের জন্য বিএলডিসি (BLDC) ফ্যান অত্যন্ত কার্যকর একটি বিকল্প। সাধারণ একটি ফ্যান ফুল স্পিডে চললে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ করে। পক্ষান্তরে, অত্যাধুনিক মাইক্রোকন্ট্রোলার চালিত বিএলডিসি ফ্যানগুলি ফুল স্পিডে চললেও মাত্র ২৮ থেকে ৩৫ ওয়াট বিদ্যুৎ টানে। এই ফ্যানগুলি রিমোটের সাহায্যে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং গতি ১ বা ২-এ নামিয়ে আনলে বিদ্যুৎ খরচ এক ধাক্কায় মাত্র ৬ থেকে ১০ ওয়াটে নেমে আসে।
অবশ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্যানের স্পিড কেবল অর্ধেক করে দিলেই যে বিদ্যুৎ খরচ ঠিক ৫০ শতাংশ কমে যাবে, বিষয়টি এমন নয়। মূলত ফ্যানের মোটর, রেগুলেটরের ধরন এবং ফিনটি প্রতিদিন ঠিক কত ঘণ্টা সচল থাকছে, তার ওপরই নির্ভর করে আসল বিদ্যুৎ সাশ্রয়।