ঘণ্টার পর ঘণ্টা নয়, মাত্র ৫ মিনিটে পরিষ্কার করুন একগাদা কুচো মাছ! রইল সহজ ও কার্যকরী ট্রিকস

বাঙালির পাতে কুচো মাছের চচ্চড়ি কিংবা গরম ভাতের সঙ্গে মচমচে মাছ ভাজা মানেই এক অন্যরকম তৃপ্তি। পুষ্টিগুণেও ভরপুর এই ছোট মাছগুলো খেতে ভালোবাসেন প্রায় সবাই। কিন্তু বাজার থেকে কিনে আনার পর এই ছোট ছোট মাছ কাটার ঝামেলা আর সময়ের কথা মনে পড়লেই রান্না করার উৎসাহে জল পড়ে যায়। পুঁটি বা মৌরলা মাছের মতো কুচো মাছ কাটার ঝক্কি এড়াতে অনেকেই আজকাল আর সেগুলি কিনতে চান না। তবে কয়েকটি সহজ কৌশল জানা থাকলে কাটাকুটির এই দীর্ঘ সময় নষ্টের আর কোনো সম্ভাবনাই থাকে না। মাত্র পাঁচ মিনিটেই পরিষ্কার করে ফেলা সম্ভব একগাদা কুচো মাছ।
মাছ পিছলে যাওয়া আটকাতে সহজ উপায়
কুচো মাছের গায়ে পিচ্ছিল ভাব থাকার কারণে কাটার সময় তা সবচেয়ে বেশি হাতে পিছলে যায়। এই সমস্যা থেকে রেহাই পেতে বঁটি বা ছুরি ব্যবহার করার আগে হাতে সামান্য কাঁচা সর্ষের তেল, গুঁড়ো ছাই কিংবা শুকনো ময়দা ভালো করে মেখে নিতে পারেন। এর ফলে মাছগুলো শক্তভাবে ধরা যাবে এবং হাত থেকে পিছলে যাওয়ার কোনো ভয় থাকবে না।
কাঁচি ও চামচের জাদুকরি ব্যবহার
ছোট মাছ কাটার জন্য গতানুগতিক বঁটির চেয়ে একটি ধারালো কিচেন সিজার্স (Kitchen Scissors) ব্যবহার করা অনেক বেশি সুবিধাজনক।
কানকো ও পাখনা ছাঁটাই: প্রথমে কাঁচি দিয়ে খুব সহজেই মাছের কানকো এবং পাখনার অংশগুলো ছেঁটে ফেলা যায়।
নাড়িভুঁড়ি পরিষ্কার: এরপর পেটের কাছে সামান্য একটু চিরে হালকা চাপ দিলেই সমস্ত নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে আসে। বঁটিতে আঙুল কেটে যাওয়ার যে ঝুঁকি থাকে, কাঁচির সাহায্যে তা নিমিষেই সেরে ফেলা সম্ভব।
আঁশ তোলার সহজ কৌশল: মাছের আঁশ ছাড়ানোর জন্য ছোট ছুরি ব্যবহার না করে একটি কাচের ধারালো গ্লাস, স্টিলের চামচ বা ছোট বাটির সাহায্য নিতে পারেন। মাছের লেজের দিকটা শক্ত করে ধরে মাথার দিকে গ্লাসের ধার দিয়ে হালকা হাতে ঘষলেই এক সেকেন্ডে সব আঁশ উঠে আসে। এমনকি এই পদ্ধতিতে আঁশগুলো চারধারে ছড়িয়েও পড়ে না।
গন্ধ দূর করার চটজলদি উপায়
মাছ কাটা সম্পূর্ণ হয়ে গেলে ধোওয়ার প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করতে একটি ছড়ানো পাত্রে কিছুটা নুন ও ঈষদুষ্ণ জল নিন। সেই জলে কাটা মাছগুলো হালকা হাতে ঘষে ধুয়ে নিলেই মাছের গায়ে থাকা আঁশটে গন্ধ, নোংরা এবং পিচ্ছিল ভাব এক নিমেষে দূর হয়ে যাবে।
এই সহজ ও আধুনিক কৌশলগুলো মেনে চললে কুচো মাছ কাটার সমস্ত ঝামেলা এড়ানো যাবে খুব সহজেই। ফলে সময় বাঁচিয়ে অল্প পরিশ্রমেই পরিবারের সবার জন্য তৈরি করে ফেলা যাবে রসনীতৃপ্তিকর নানা মাছের পদ।