হোমওয়ার্ক না করায় শিক্ষিকার মার! স্কুলেই প্রাণ গেল বছর ছয়েকের শিশুর, সিসিটিভি ফুটেজে চরম সত্য ফাঁস

আর পাঁচটা সাধারণ দিনের মতোই সেদিন ঘুম থেকে উঠে নিজেই স্কুলে যাওয়ার বায়না ধরেছিল বছর ছয়েকের শিশুটি। সামনে পরীক্ষা, তাই সন্তানের পড়াশোনার আগ্রহ দেখে বাধা দেননি বাবা-মাও। হাসিমুখে স্কুলবাসে বা পরিবারের সঙ্গেই রওনা হয়েছিল সে। কিন্তু কে জানত, দুপুরের সেই একটি ফোন কল গোটা পরিবারকে চিরতরে অন্ধকারে ডুবিয়ে দেবে? অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমের একটি বেসরকারি স্কুলে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় এখন রীতিমতো তোলপাড় রাজ্যজুড়ে।
ঠিক কী ঘটেছিল স্কুলে?
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শিশুটির নাম প্রণয় তেজা। পরিবারের দাবি, প্রণয়ের আগে থেকে কোনো শারীরিক অসুস্থতা বা ভাইরাল ফিভার ছিল না। আগের দিন রাতেও দিব্যি খেলাধুলা করে সুস্থ শরীরে ঘুমিয়েছিল সে। কিন্তু স্কুলে পৌঁছানোর পর হোমওয়ার্ক বা বাড়ির কাজ সম্পূর্ণ না করে নিয়ে যাওয়ার কারণে ওই শিশুর ওপর চড়াও হন এক শিক্ষিকা।
অভিযোগ, ক্লাসরুমেই একটি লাঠি দিয়ে অবুঝ শিশুটিকে বেধড়ক মারধর করেন ওই শিক্ষিকা। মারের চোটে শিক্ষিকার কোলেই জ্ঞান হারিয়ে ঢলে পড়ে ছোট্ট প্রণয়। এরপর দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, হাসপাতালে পৌঁছানোর অন্তত আধ ঘণ্টা আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল।
সামনে এল হাড়হিম করা সিসিটিভি ফুটেজ
ঘটনার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। স্কুলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করায় চাপ বাড়ে কর্তৃপক্ষের ওপর। পুলিশ স্কুলটির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা খতিয়ে দেখতেই রক্ত হিম হয়ে যাওয়ার মতো তথ্য সামনে আসে। ক্যামেরার ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়, হাতে লাঠি নিয়ে ওই শিশুকে নির্দয়ভাবে মারধর করছেন অভিযুক্ত শিক্ষিকা। শুধু প্রণয়কেই নয়, ওই শিক্ষিকা এর আগেও বহুবার অন্য পড়ুয়াদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন অন্যান্য অভিভাবকরা।
এই পৈশাচিক কান্ডে অন্ধ্রপ্রদেশের স্কুলশিক্ষা দফতর অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। একটি নিষ্পাপ শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়।