১৯৭৩ সালের স্কুলে ছাত্র মাত্র ১ জন, শিক্ষকও ১! খাস কলকাতার সরকারি স্কুলের এই হাল দেখে শিউরে উঠবেন

খাস কলকাতার বুকে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল ও রুদ্ধশ্বাস ছবি সামনে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্কুল মানেই যেখানে কচি কন্ঠের কলরব, পড়ুয়াদের দৌড়ঝাঁপ আর শিক্ষকদের বকুনিতে মুখরিত থাকার কথা, সেখানে এক ভুতুড়ে ও খাঁ খাঁ করা পরিবেশ বিরাজ করছে বেহালার রায়বাহাদুর রোডের বেহালা আদর্শ শিক্ষা নিকেতন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ের বর্তমান চিত্র দেখলে যে কারও চোখ কপালে উঠবে।

স্কুলের অন্দরের ছবি ঠিক কেমন?
স্কুলের দরজা খুললেই একে একে চোখে পড়ে অফিসঘর কিংবা ক্লাসরুম। নিয়মমতো চেয়ার, টেবিল, বেঞ্চ বা ব্ল্যাকবোর্ড সবই রয়েছে, কিন্তু নেই কোনো শিক্ষক বা পড়ুয়া। একসময়ে গমগমে স্কুলে এখন ফ্যানের পাখাগুলো ধুলোর স্তরে ঢাকা, এমনকি সিলিং থেকে খুলে মেঝেতে পড়ে রয়েছে ফ্যান। খাস কলকাতার বুকে একটি সরকারি স্কুলের দিনের পর দিন এমন বেহাল দশা চলতে থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মাত্র একজন পড়ুয়া এবং শিক্ষক!
অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, ১৯৭৩ সালে পথচলা শুরু করা এই স্কুলটিতে বর্তমানে নামমাত্র উপস্থিতি বলতে মোটে একজন পড়ুয়া এবং মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়ে নিয়মিত পঠনপাঠনের কোনো পরিবেশই আর টিকে নেই। মিড ডে মিলের রান্নাও হয় কেবল ওই একজনমাত্র ছাত্রের জন্যই। অভিযুক্ত শিক্ষক প্রতিদিন সকাল দশটা নাগাদ স্কুলে এসে নির্দিষ্ট কিছু সময় কাটিয়ে বাড়ি ফিরে যান বলে স্থানীয়দের দাবি। ক্যামেরার সামনে এই বিষয়ে কথা বলতেও অস্বীকার করেছেন ওই শিক্ষক।

কেন তৈরি হলো এমন পরিস্থিতি?
দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির পরিকাঠামো উন্নয়নে চরম অবহেলা এবং পঠনপাঠনের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার কারণেই মূলত অভিভাবকেরা সন্তানদের অন্যত্র ভর্তি করতে বাধ্য হয়েছেন বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। শিক্ষা ব্যবস্থার এই হতশ্রী দশায় এলাকার বাসিন্দারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের জোরালো দাবি, ১৯৭৩ সালের পুরনো এই ঐতিহ্যবাহী স্কুলটিকে ফেলে না রেখে দ্রুত নতুন করে সংস্কার করা হোক এবং উপযুক্ত পরিকাঠামো তৈরি করে পঠনপাঠন চালু করা হোক, যাতে এলাকার ছেলেমেয়েরা ফের এই স্কুলে ফিরে আসার উৎসাহ পায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *