ত্বকের যত্নে কি বড় ভুল করছেন? নিষ্প্রাণ স্কিন চকচকে করতে মেনে চলুন এই সহজ নিয়মগুলি

ত্বকের যত্নে বাজারে উপলব্ধ নানা ধরনের প্রসাধন সামগ্রী ব্যবহার করার পরেও কখনও কখনও মনে হতে পারে যে ত্বকের উপর যেন কোনো কিছুর আস্তরণ জমে রয়েছে। এমনকি নিয়মিত এবং সঠিক পরিচর্যা সত্ত্বেও ত্বক অনেক সময় নিষ্প্রাণ বা অনুজ্জ্বল দেখাতে পারে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে ত্বকের উপর জমে থাকা মৃত কোষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের সঠিক যত্নে ‘এক্সফোলিয়েশন’ (Exfoliation) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ এবং এটি নিয়মানুগভাবে করা আরও বেশি জরুরি।
ত্বকের ওপরের স্তর থেকে মৃত কোষ দূর করতে এবং লোমকূপের মুখ পরিষ্কার রাখতে এক্সফোলিয়েশনের জুড়ি মেলা ভার। এটি ত্বকের গঠন উন্নত করে মুখে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে। পাশাপাশি, দৈনন্দিন স্কিনকেয়ার পণ্যগুলিকে ত্বকের গভীরে আরও ভালোভাবে প্রবেশ করতে সাহায্য করে। তবে এই প্রক্রিয়াটি করারও সঠিক নিয়ম রয়েছে। প্রথমে ভালো করে মুখ পরিষ্কার করে নিয়ে সামান্য ফেস স্ক্রাব আঙুলের ডগায় নিতে হবে। এরপর কপাল ও চিবুকের অংশে বিশেষ মনোযোগ দিয়ে বৃত্তাকার গতিতে আলতোভাবে কয়েক সেকেন্ড মুখে মাসাজ করতে হবে। সবশেষে ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নেওয়া উচিত।
কত ঘন ঘন এক্সফোলিয়েট করা উচিত? সাধারণত সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিনবার এই প্রক্রিয়াটি করা যেতে পারে। তবে যাঁদের ত্বক শুষ্ক বা সংবেদনশীল, তাঁদের সপ্তাহে মাত্র একবার এক্সফোলিয়েট করা উচিত। অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশন করলে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষাস্তর বা ‘স্কিন ব্যারিয়ার’ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ত্বকের সংবেদনশীলতা অনেকটাই বেড়ে যায়।
ত্বক সুস্থ রাখতে বেশ কিছু ভুল এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি। যেমন— কখনই মুখের ত্বকে বডি স্ক্রাব ব্যবহার করা উচিত নয়। বডি স্ক্রাবে অপেক্ষাকৃত বড় ও অমসৃণ কণা থাকে, যা মুখের কোমল ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এছাড়া এক্সফোলিয়েশনের পরপরই ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন লাগাতে ভুললে চলবে না, কারণ এই সময় ত্বক অতিবেগুনি রশ্মির প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। ত্বকের ধরন অনুযায়ী এক্সফোলিয়েশনের পদ্ধতিও আলাদা হয়। সংবেদনশীল ত্বকের জন্য মৃদু অ্যাসিড বা প্রাকৃতিক এনজাইমযুক্ত কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েশন অধিক নিরাপদ, অন্যদিকে স্বাভাবিক ও তৈলাক্ত ত্বকের জন্য মেকানিক্যাল এক্সফোলিয়েশন বেশি উপযোগী।