পুজো হবে তো? ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে ঐতিহাসিক স্কুলেই দুর্গাপুজোয় নিষেধাজ্ঞা প্রধান শিক্ষকের!

দুর্গাপুজোর আনন্দকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই সেজে ওঠে বাংলা। কিন্তু পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার বালিঘাই এলাকায় এবার পুজোর মাঠ নিয়েই তৈরি হয়েছে এক বড় আইনি ও সামাজিক জটিলতা। প্রতিবারের মতো এবারও বালিঘাই বিবেকানন্দ ব্যায়ামাগার ক্লাবের উদ্যোগে ৫১তম দুর্গোৎসবের জোর প্রস্তুতি চলছে। তবে পুজোর স্থান নির্বাচন নিয়েই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। গত বছরের মতো এবারও বালিঘাই হাইস্কুলের খেলার মাঠেই পুজোর আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ক্লাব কর্তৃপক্ষ। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে মিলল না মাঠ ব্যবহারের অনুমতি। আর তাতেই কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী এই পুজো।
পুজো কমিটি ও স্থানীয় গ্রামবাসীদের আলোচনা অনুযায়ী, পুরনো ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই স্কুল মাঠে পুজোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনও জানানো হয়। কিন্তু সেই অনুমতি দিতে সম্পূর্ণ নারাজ বালিঘাই হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রীতম প্রসাদ সিনহা।
কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত? প্রধান শিক্ষক প্রীতম প্রসাদ সিনহা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, স্কুলের খেলার মাঠ মূলত ছাত্রছাত্রীদের নিয়মিত খেলাধুলা ও পঠনপাঠনের নানা কাজের জন্যই বরাদ্দ। সেখানে দুর্গাপুজোর মতো বড় আয়োজন হলে দীর্ঘ সময় ধরে মাঠটি দখল হয়ে থাকে, যার ফলে ছাত্রছাত্রীদের খেলাধুলা মার খায়। তাঁর অভিযোগ, গত বছরও পুজোর অনুমতি দেওয়া হলেও আয়োজক সংস্থা প্রায় তিন থেকে চার মাস ধরে মাঠটি ব্লক করে রেখেছিল। অগস্ট মাস থেকেই মাঠ দখল হয়ে যাওয়ায় ছোট ছোট বাচ্চারা খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছিল, যা নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেন তিনি। প্রায় একশো বছরের পুরনো এই ঐতিহ্যবাহী স্কুলে এবার আর মাঠের মধ্যে পুজো করতে দিতে রাজি নন প্রধান শিক্ষক।
প্রধান শিক্ষকের এই আপত্তির পরেই বালিঘাইজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক শোরগোল শুরু হয়েছে। ৫১ বছরের পুরনো এই পুজোকে কেন্দ্র করে এলাকার সাধারণ মানুষের আবেগ যেমন তুঙ্গে, তেমনই স্কুলের পঠনপাঠন ও ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের এই অনড় অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দুই পক্ষের এই টানাপোড়েনে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীরা ইতিমধ্যেই প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন। এই বিষয়ে এগরার বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, পুজো করতে দেওয়া বা না দেওয়ার এক্তিয়ার সম্পূর্ণ স্কুল কর্তৃপক্ষের রয়েছে, আর পরবর্তী সময়ে এই নিয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা সময়মতো জানানো হবে।