যন্তর মন্তর ও ঝাড়খণ্ডের পর এবার বিহারে বিস্ফোরণ! TRE-4 পরীক্ষার দাবিতে রাস্তায় নামলেন চাকরিপ্রার্থীরা।

যন্তর মন্তর ও ঝাড়খণ্ডের পর এবার শিক্ষক নিয়োগের চতুর্থ পর্যায়ের পরীক্ষা (TRE-4) দ্রুত আয়োজনের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিহার। মঙ্গলবার পাটনার গর্দানিবাগে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন চাকরিপ্রার্থীরা। অবিলম্বে পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি না প্রকাশিত হলে শিক্ষামন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাও করে তাঁর পদত্যাগের দাবি তোলার কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলি কী কী? শুধু TRE-4 পরীক্ষা নয়, এর পাশাপাশি একাধিক অসঙ্গতি ও সংস্কারের দাবি তুলেছেন প্রার্থীরা। তাঁদের মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • ২৪ ঘণ্টার মধ্যে BPSC TRE-4 পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ।

  • সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের নতুন নিয়মে পরিবর্তন।

  • রাজ্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার বিভিন্ন অসঙ্গতি দূর করা।

  • BPSC TRE-4-এ এক ধাপের পরীক্ষা চালু করা।

  • দুর্নীতির মাধ্যমে চাকরি পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা।

  • BSSC নিয়োগে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ।

চরম আন্দোলনের হুংকার ছাত্রনেতা দিলীপ কুমারের সাফ দাবি, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হলে তাঁরা সরাসরি শিক্ষামন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করবেন। এমনকি তিন দিনের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আমরণ অনশন শুরু করারও হুমকি দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই কুমুদ পটেল নামের এক আন্দোলনকারী দীর্ঘ ১৫ দিন ধরে অনশনে অনড় রয়েছেন।

অন্য আরেক ছাত্রনেতা কুন্দন সিং জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল উচ্চশিক্ষামন্ত্রী সঞ্জয় সিং টাইগার এবং অতিরিক্ত মুখ্যসচিব দীপক কুমারের সঙ্গে বৈঠক করলেও কোনো সদুত্তর মেলেনি। দিল্লির যন্তর মন্তর ও ঝাড়খণ্ডের সাম্প্রতিক আন্দোলনের পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে বড় কোনো বিপদের আগেই রাজ্য সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা।

ঝাড়খণ্ডের পরিস্থিতির প্রভাব এদিকে, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে চলা ঝাড়খণ্ডের আন্দোলনও নতুন মোড় নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন ২০১৪ সাল থেকে আউটসোর্সিং সংস্থার মাধ্যমে নেওয়া সমস্ত নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা করার পর অনশনরত তিন জন আন্দোলনকারী তাঁদের অনশন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তবে সব মিলিয়ে প্রতিবেশী রাজ্যের মতোই বিহারেও শিক্ষক নিয়োগের এই নতুন বিজ্ঞপ্তি ঘিরে রাজ্য সরকারের উপর চাপ ক্রমশ বেড়েই চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *