“অভিযুক্তদের সম্মানক্ষুণ্ণ করা যায় না!” সোশ্যাল মিডিয়া নীতি নিয়ে কেন্দ্র ও মেটার জবাব তলব সুপ্রিম কোর্টের।

সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো অপরাধের ঘটনায় অভিযুক্তদের নাম, ছবি বা পরিচয় প্রকাশ করা নিয়ে এবার বড়সড় আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সোশাল মিডিয়ায় অভিযুক্তদের পরিচয় প্রকাশ করা অমানবিক এবং অবমাননাকর—এই মর্মে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে কেন্দ্র, বিভিন্ন রাজ্য সরকার এবং মেটার মতো প্রভাবশালী সোশ্যাল মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব তলব করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চে এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেছেন প্রবীণ আইনজীবী গোপাল সঙ্করনারায়ণ। আদালতে এই মামলার সওয়াল করছেন আইনজীবী শ্রুতঞ্জা ভরদ্বাজ এবং আবেদনকারী হলেন হেমেন্দ্র প্যাটেল।

আইনজীবীর মূল দাবিগুলি কী কী? মঙ্গলবারের শুনানিতে আইনজীবী আদালতের সামনে জোরালো সওয়াল করে জানান, সমস্ত রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনকে এমন স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া উচিত যাতে কোনো অপরাধমূলক ঘটনায় অভিযুক্তদের নাম বা পরিচয় কোনোভাবেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে আনা না হয়। পাশাপাশি, অভিযুক্তদের এমন কোনো তথ্য বা ছবি জনসমক্ষে আনা যাবে না যা তাঁদের অসম্মানের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

প্রতিটি রাজ্য সরকারকে নিজেদের পুলিশ বাহিনীর সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট এবং কঠোর নিয়ম তৈরি করার আর্জি জানানো হয়েছে। এছাড়া, ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকেও এই বিষয়ে নিজস্ব গাইডলাইন বা বিধি তৈরি করার নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অভিযুক্তদের পরিচয় ফাঁস না করা যায়।

আইনি বিতর্ক এবং প্রেক্ষাপট আইনজীবীদের মতে, অভিযুক্তদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ্যে নিয়ে আসার বিতর্ক বহু পুরনো। এর আগে বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে নির্যাতিতা বা তাঁর পরিবারের গোপনীয়তা রক্ষায় একাধিক কড়া পদক্ষেপ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। সম্প্রতি আরজি কর কাণ্ডের সময়ও অনলাইনে নির্যাতিতার পরিচয় ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরে এসেছিল। সেই সময় আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল যে এই ধরনের কাজ আইনত দণ্ডনীয় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

এবার অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার পাশাপাশি অভিযুক্তদের অনলাইন প্রাইভেসি ও মর্যাদা রক্ষার দাবিতে দায়ের হওয়া এই জনস্বার্থ মামলা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। আগামী দিনে এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *