৮ হাজার কোটিরও বেশি টাকা জমেছে পিএম কেয়ার্স ফান্ডে! এক বছরে খরচ হয়েছে মাত্র লাখ আটেক?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে তৈরি অতি জরুরি ও সংকটকালীন তত্রাণ তহবিল ‘পিএম কেয়ার্স ফান্ড’ (PM CARES Fund)-এর সাম্প্রতিক আর্থিক বিবরণী বা অডিট রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-’২৪ অর্থবর্ষে এই তহবিলে যেখানে ৭ হাজার ১৭১ কোটি টাকা গচ্ছিত ছিল, ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষের শেষ নাগাদ তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৮ হাজার ৪৫০ কোটিরও বেশি। কীভাবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিচালিত হচ্ছে এবং কোন খাতে কত টাকা খরচ বা বিনিয়োগ করা হয়েছে, তার বিশদ বিবরণ সামনে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে চর্চা।
ফিক্সড ডিপোজিটের সুদে বাড়ছে টাকার পাহাড়
সাম্প্রতিক অডিট রিপোর্ট খতিয়ে দেখা গেছে, তহবিলের বেশিরভাগ অর্থই বর্তমানে ব্যাংকের ফিক্সড ডিপোজিট বা স্থায়ী আমানত হিসেবে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। আগের অর্থবর্ষগুলোতে যেখানে একটি বড় অংশ সেভিংস অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হতো, সেই নিয়মে বড় পরিবর্তন এনে প্রায় ৯৩ শতাংশ অর্থই ফিক্সড ডিপোজিটে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এর জেরে শুধু সুদ বাবদই শত শত কোটি টাকা আয় হয়েছে তহবিলে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে শুধু স্থায়ী আমানতের সুদ থেকেই প্রায় ৪৭৫ কোটি টাকা যুক্ত হয়েছে, যা সরাসরি মূল তহবিলের অঙ্ককে এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে।
অনুদান এবং ব্যয়ের হিসাব
বিশ্লেষকদের মতে, জরুরিকালীন পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে গঠিত এই তহবিলে বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে নিয়মিত অনুদান আসছে। ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে দেশ ও বিদেশ থেকে অনুদান, সুদ এবং কার্যকরী সংস্থাগুলির ফেরত পাঠানো অর্থ মিলিয়ে মোট ১,২৭৯ কোটি টাকার বেশি জমা হয়েছিল। এর বিপরীতে ওই নির্দিষ্ট অর্থবর্ষে খরচ হয়েছে অত্যন্ত সীমিত পরিমাণ—মাত্র ৮৭.৮৫ লক্ষ টাকা। যার সিংহভাগ টাকাই ব্যয় করা হয়েছে মূলত ‘পিএম কেয়ার্স ফর চিলড্রেন’ (PM CARES for Children Scheme) প্রকল্পের পেছনে। কম খরচের জেরে তহবিলের জমা টাকার পরিমাণ প্রতি বছরই ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
করোনা কাল থেকে বর্তমান পরিস্থিতি
কোভিড-১৯ মহামারির সংকট মোকাবিলার লক্ষ্য নিয়ে ২০২০ সালের মার্চ মাসে এই বিশেষ পাবলিক চ্যারিটেবল ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশ-বিদেশের বহু মানুষ ও প্রতিষ্ঠান এই তহবিলে মুক্তহস্তে অনুদান দিয়েছেন। মহামারী চলাকালীন ভেন্টিলেটর কেনা, অস্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণ, অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপন এবং টিকাকরণ প্রক্রিয়ায় বিশাল অংকের অর্থ খরচ করা হলেও, পরবর্তীতে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় প্রতি বছর খরচের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
সর্বশেষ অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চের শেষ পর্যন্ত এই তহবিলের মোট গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ ৮,৪৫২ কোটির গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে, যার একটি বড় অংশ ব্যাংকে সুরক্ষিত রেখে জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।