টক দইয়ের পুষ্টি কি বিষে পরিণত হচ্ছে? চিনি বা নুন মেশানোর আগে জেনে নিন চিকিৎসকদের মত

ওজন কমানো থেকে শুরু করে পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে টক দইয়ের জুড়ি মেলা ভার। ক্যালসিয়াম, প্রোটিন এবং প্রোবায়োটিকে ভরপুর এই খাবারটি কমবেশি প্রতিটি বাঙালি বাড়িতেই নিয়মিত খাওয়া হয়। কিন্তু পুষ্টিকর এই খাবারটি খাওয়ার সময় সামান্য কিছু ভুল করলেই তার সমস্ত গুণাগুণ নষ্ট হয়ে উল্টে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

বিশেষ করে টক দইয়ের স্বাদ বাড়াতে তাতে অতিরিক্ত চিনি বা নুন মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে অনেকেরই। চিকিৎসাক ও পুষ্টিবিদদের মতে, এই ছোট্ট অভ্যাসটিই টক দইয়ের স্বাস্থ্য উপকারিতাকে সম্পূর্ণ পণ্ড করে দিতে পারে। ডেইলি হান্টের পাঠকদের জন্য রইল এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত ও সতর্কবার্তা।

১. চিনি মেশালে কমতে শুরু করে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতা
টক দইয়ে প্রচুর পরিমাণে লাইভ প্রোবায়োটিক বা উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু এতে অতিরিক্ত চিনি মিশিয়ে খেলে দইয়ের মধ্যে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে এবং উল্টে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি ঘটে। এর ফলে হজমশক্তি উন্নত হওয়ার পরিবর্তে অ্যাসিডিটি ও পেটের গোলযোগ দেখা দিতে পারে।

২. অতিরিক্ত নুন মেশালে সোডিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি পায়
অনেকেই টক দইয়ের সঙ্গে নুন মিশিয়ে রায়তা বা ঘোল বানিয়ে খেতে ভালোবাসেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, টক দইয়ে অতিরিক্ত নুন যোগ করলে খাবারে সোডিয়ামের মাত্রা হঠাৎ করে অনেক বেড়ে যায়। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশারের রোগীদের হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পেতে পারে।

৩. ওজন কমার পরিবর্তে ওজন বাড়ার আশঙ্কা
টক দই ক্যালোরি কমাতে সাহায্য করে ঠিকই, কিন্তু তাতে স্বাদ আনতে চিনি মেশালে ক্যালোরির মাত্রা হু হু করে বেড়ে যায়। ফলস্বরূপ, ফ্যাট ঝরার বদলে শরীরে মেদ জমতে শুরু করে, যা ওজন কমানোর সমস্ত চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেয়।

৪. ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব
টক দই কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত হওয়ায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বেশ উপকারী। কিন্তু এতে চিনি বা মিষ্টির পরিমাণ বাড়িয়ে দিলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যা রোগীর শরীরের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক।

টক দইয়ের সম্পূর্ণ পুষ্টিগুণ পেতে হলে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এতে চিনি বা নুন না মিশিয়ে প্রাকৃতিকভাবে বা সামান্য ফলমূল মিশিয়ে খাওয়া উচিত। একটু সচেতনতাই আপনাকে রাখতে পারে সুস্থ ও রোগমুক্ত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *