“ঋতব্রতর সঙ্গে ১২ মিনিট ফোনে কথা হয় আশিসের”- জেনেনিন ঠিক কী ঘটেছিল?

বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার তথা প্রবীণ তৃণমূল নেতা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের পার্টি অফিস থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে গভীর শোক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত্যুর আগে তিনি ২৩৩ শব্দের একটি সুইসাইড নোট রেখে গেছেন, যার শেষে ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়’ লেখা থাকলেও পুরো চিঠিতে ছত্রে ছত্রে দলের অন্দরের দুর্নীতি ও চাপের অভিযোগ উঠে এসেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এবার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী শিবির।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, মৃত্যুর আগের দিন শুক্রবারও তাঁর সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়েছিল আশিসবাবুর। প্রথমবার সকাল ১০টা ১২ মিনিটে এবং পরবর্তীতে বিকেল ৩টে ৫৭ মিনিটে প্রায় ১২ মিনিট কথা হয়। সেই কথোপকথনে তিনি বারবার তাঁর ৩ জন সহায়কের চাকরি স্থায়ী করার জন্য কোনো বন্দোবস্ত করা যায় কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ঋতব্রতের মতে, এই খবরটি তাঁর কাছে সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্য ছিল।

সুইসাইড নোট ও দলীয় চাপের অভিযোগ

ঋতব্রত জানান, অত্যন্ত সুন্দর হাতের লেখায় লেখা ওই সুইসাইড নোটে আশিসবাবু উল্লেখ করেছেন যে, দলের সমস্ত অন্যায় তিনি সর্বদা মেনে নিতে না পারলেও প্রতিবাদের কোনো পরিস্থিতি ছিল না। শুধু তিনি একা নন, অনুব্রত মণ্ডল, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, শতাব্দী রায় কিংবা ঋজু দত্তদের মতো নেতাদেরও সেই পরিস্থতি ছিল না বলে দাবি করেছেন তিনি।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের একাংশের বিদ্রোহে নাম লিখিয়েছিলেন আশিসবাবু। ঋতব্রতের দাবি, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় একজন নিপাট ভদ্রলোক ছিলেন এবং নির্বাচনের পর তাঁর অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা ঢোকেনি। সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির মাধ্যমে তাঁকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে অভিযোগ তুলে এর পেছনে থাকা ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সিআইডি তদন্তের দাবিও তোলা হয়েছে।

বিরোধী শিবিরের প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনাকে নিছক আত্মহত্যা বলে মানতে নারাজ বিরোধী দলনেতা। তাঁর মতে, এটি একটি ‘প্রাতিষ্ঠানিক খুন’। পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *