৫ লাখের FD-র সুদে SBI-কে টেক্কা দিচ্ছে এই ব্যাঙ্ক, জেনেনিন বছরে মিলবে কত টাকা?

ফিক্সড ডিপোজিট বা এফডি-তে (FD) টাকা রেখে নিশ্চিত রিটার্ন পেতে চান? তাহলে শুধু দেশের বড় বড় ব্যাঙ্কের সুদের হার দেখলেই হবে না। কারণ বর্তমানে সরকারি বা বড় ব্যাঙ্কের তুলনায় কয়েকটি স্মল ফিনান্স ব্যাঙ্ক নির্দিষ্ট মেয়াদের এফডি-তে অনেক বেশি সুদ অফার করছে। ফলে একটু বুঝেশুনে বিনিয়োগ করলে সামান্য ৫ লাখ টাকার এফডিতেও বছরে হাজার হাজার টাকা বেশি লাভ হতে পারে।

সুদের হারে বড় ফারাক

সম্প্রতি ১১ অগাস্টের হিসাব অনুযায়ী, নিয়মিত গ্রাহকদের জন্য দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এসবিআই-এর (SBI) সর্বোচ্চ এফডি সুদের হার ছিল ৬.৪৫ শতাংশ (যা পাওয়া যাচ্ছে ৪৪৪ দিনের এফডিতে)। অন্যদিকে, সূর্যোদয় স্মল ফিনান্স ব্যাঙ্ক (Suryoday Small Finance Bank) এবং উৎকর্ষ স্মল ফিনান্স ব্যাঙ্ক (Utkarsh Small Finance Bank) নির্দিষ্ট মেয়াদের এফডিতে সর্বোচ্চ ৮.১০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দিচ্ছে।

এই দুই খাতের মধ্যে সুদের হারের পার্থক্য ১.৬৫ শতাংশ পয়েন্ট। অর্থাৎ, ৫ লাখ টাকা এফডি করলে এই পার্থক্যের কারণে বছরে প্রায় ৮,২৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি সুদ পাওয়া সম্ভব। প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান আরও বেশি, যেখানে কিছু স্মল ফিনান্স ব্যাঙ্ক ৮.৫০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দিচ্ছে।

বেশি সুদ দেখে বিনিয়োগ করার আগে কী মাথায় রাখবেন?

শুধু বেশি সুদের লোভেই যেকোনো ব্যাঙ্কে এফডি করে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বিনিয়োগের আগে কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক খতিয়ে দেখা দরকার:

  • ব্যাঙ্কের ধরন ও সুরক্ষা: এসবিআই একটি রাষ্ট্রায়ত্ত এবং অত্যন্ত নিরাপদ ব্যাঙ্ক, অন্যদিকে স্মল ফিনান্স ব্যাঙ্কগুলির ব্যবসায়িক মডেল ভিন্ন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স অ্যান্ড ক্রেডিট গ্যারান্টি কর্পোরেশন (DICGC)-এর নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো ব্যাঙ্কে একজন গ্রাহকের মূল ও সুদ মিলিয়ে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ ও বিমাভুক্ত থাকে। তাই বড় অঙ্কের টাকা হলে তা বিভিন্ন ব্যাঙ্কে ভাগ করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

  • মেয়াদ ও প্রি-ম্যাচিওরিটি রুল: সব ব্যাঙ্কের এফডি-র মেয়াদ এক হয় না। তাছাড়া মাঝপথে জরুরি প্রয়োজনে এফডি ভাঙতে হলে (Premature Withdrawal) কতটা জরিমানা দিতে হবে বা কী নিয়ম রয়েছে, তা আগে থেকেই জেনে নেওয়া ভালো।

তাই কেবল সর্বোচ্চ সুদের হার না দেখে, ব্যাঙ্কের আর্থিক পরিস্থিতি, নিজস্ব আর্থিক প্রয়োজন এবং লভ্যাংশের কম্পাউন্ডিং নিয়ম বিচার করেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *