ব্যালকনি ও গাছ বেয়ে বাঁচার আকুতি, শর্ট সার্কিট থেকে দাউ দাউ করে জ্বলল হোটেল!

শ্রাবণের শেষ সোমবারের ভোরে এক মর্মান্তিক ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কেঁপে উঠল বীরভূমের তারাপীঠ। সোমবার ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ তারাপীঠ থানার ঠিক পাশেই অবস্থিত ‘বিদেশিনী’ নামক একটি হোটেলে আচমকাই আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন হোটেলের একতলার রিসেপশন থেকে ওপরের তলাগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। এ দিন শ্রাবণের শেষ সোমবার উপলক্ষে হোটেলটি পুণ্যার্থীদের ভিড়ে ঠাসা ছিল। ঘুমন্ত অবস্থায় এই বিপদের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়া বহু মানুষ আহত হয়ে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কীভাবে ছড়াল আগুন?

হোটেল সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ভোরে হোটেলের এসি-র এমসিবি (Miniature Circuit Breaker)-তে শর্ট সার্কিট হয়। সেখান থেকে স্পার্ক হয়ে আগুন জ্বলতে শুরু করে। নাইটগার্ড বিষয়টি দেখতে পেয়ে অন্য একজনকে ডাকেন এবং ফায়ার এক্সটিংগুইশার দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। এর মধ্যেই মুহূর্তের মধ্যে গোটা বিল্ডিং ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়। হোটেলের মালিকের ছেলে কল্যাণ পালের দাবি, সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফায়ার অ্যালার্ম বাজানো হলেও আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে প্রাথমিক পর্যায়ে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

বাঁচার আকুতি ও রোমহর্ষক পরিস্থিতি

ভোরে হঠাৎ বিকট শব্দ ও ধোঁয়া দেখে ঘুম ভেঙে যায় পর্যটকদের। অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে ঘরের দরজা বন্ধ করে ভেতরে আটকে পড়েন, আবার কেউ কেউ জীবন বাঁচাতে ব্যালকনি বা গাছের ডাল বেয়ে নিচে নেমে আসেন। অনেকে আবার ধোঁয়া থেকে বাঁচতে বাথরুমে আশ্রয় নেন। হোটেলের পেছনে ইমার্জেন্সি এক্সিট ও সিঁড়ি থাকা সত্ত্বেও বহু পর্যটক তা না জানার কারণে সামনের দরজা দিয়ে বেরোতে গিয়ে মারাত্মক বিপদে পড়েন।

প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ

খবর পেয়েই পুলিশ ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। ২২ জনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই হোটেল মালিকের ছেলেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। স্থানীয় বিধায়ক ও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার গাফিলতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *