সরকারি বৃত্তির সুবর্ণ সুযোগ! এনএসপি-র মাধ্যমে আবেদন শুরু, প্রি-ম্যাট্রিক থেকে পিএইচডি-র পড়ুয়ারা পাবেন বড় সুবিধা

ছাত্রছাত্রীদের জন্য সুখবর! ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের সরকারি বৃত্তির জন্য ন্যাশনাল স্কলারশিপ পোর্টাল (NSP)-এর মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রি-ম্যাট্রিকুলেশন থেকে শুরু করে পিএইচডি পর্যন্ত দেশের লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া এই বৃত্তির সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। কোনো আবেদন ফি ছাড়াই সম্পূর্ণ অনলাইন পদ্ধতিতে এই ফর্ম পূরণ করা যাবে। তবে মনে রাখবেন, শুধুমাত্র অনলাইনে আবেদন করলেই হবে না, সময়সীমা ও নিয়মাবলী মেনে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।
আবেদন ও জমা দেওয়ার সময়সীমা
এনএসপি স্কলারশিপ ২০২৬-এর জন্য অনলাইন আবেদন ১লা জুন থেকে শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ পর্যন্ত তাদের আবেদনপত্র পূরণ করতে পারবেন। অনলাইন আবেদন জমা দেওয়ার পর, ২০২৬ সালের ১৫ই নভেম্বরের মধ্যে আবেদনপত্রের একটি প্রিন্টআউট বা হার্ড কপি অবশ্যই সংশ্লিষ্ট স্কুল বা কলেজে জমা দিতে হবে। কর্তৃপক্ষের সাফ বার্তা, প্রতিষ্ঠানে হার্ড কপি জমা দিতে ব্যর্থ হলে আবেদনপত্রটি সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হতে পারে।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
জেনারেল, ওবিসি, ইডব্লিউএস (EWS), এসসি, এসটি এবং দিব্যাঙ্গ—সব বিভাগের যোগ্য ছাত্রছাত্রীরাই এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
-
স্কুল স্তর: প্রি-ম্যাট্রিকুলেশন এবং পোস্ট-ম্যাট্রিকুলেশন।
-
স্নাতক স্তর: বিএ, বিএসসি, বিকম, বিএড, বিটেক, বিসিএ, এলএলবি, বিবিএ।
-
স্নাতকোত্তর স্তর: এমএ, এমএসসি, এমকম, এমবিএ, এমসিএ, এমটেক, এলএলএম, এমএড।
-
অন্যান্য: ডিপ্লোমা, সার্টিফিকেট কোর্স এবং পিএইচডি।
কী কী নথি প্রয়োজন?
আবেদন করার আগে নিম্নলিখিত কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন: ১. হাই স্কুল ও ইন্টারমিডিয়েটের মার্কশিট। ২. পূর্ববর্তী পরীক্ষার সার্টিফিকেট। ৩. জাতিগত শংসাপত্র (কাস্ট সার্টিফিকেট)। ৪. আয়ের শংসাপত্র। ৫. [আপনার আধার নম্বর/পরিচয়পত্র]। ৬. বোনাফাইড সার্টিফিকেট (প্রথমবার আবেদনকারীদের জন্য)।
বিশেষ সতর্কবার্তা: ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও এনপিসিআই লিঙ্ক
বৃত্তির টাকা সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। তাই শিক্ষার্থীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট অবশ্যই [আপনার আধার নম্বর/পরিচয়পত্র]-এর সঙ্গে লিঙ্ক করা থাকতে হবে। পাশাপাশি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে এনপিসিআই (NPCI) ম্যাপিং করা অত্যন্ত জরুরি। এটি না থাকলে বৃত্তির টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকবে না।
আবেদনের ধাপসমূহ:
১. প্রথমে এনএসপি-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে ওটিআর (OTR) বা ওয়ান-টাইম রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন। এটি আধার-ভিত্তিক কেওয়াইসি-র মাধ্যমে করতে হবে। ২. রেজিস্ট্রেশনের পর প্রাপ্ত ওটিআর নম্বরটি যত্ন করে রেখে দিন। ৩. পোর্টালে লগ ইন করে ব্যক্তিগত, শিক্ষাগত এবং ব্যাঙ্কের বিবরণ সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করুন। ৪. প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করে তথ্য পুনরায় যাচাই (Re-verify) করুন। ৫. ফাইনাল সাবমিশনের পর প্রিন্টআউট নিন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জমা দিন।
শিক্ষার্থীদের এই সোনালী সুযোগ হাতছাড়া না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আরও বিস্তারিত জানতে লগ-ইন করুন ন্যাশনাল স্কলারশিপ পোর্টালের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে।