‘খারাপ লাগে, একজন দক্ষ অভিনেত্রীকে এভাবে কোণঠাসা করা হয়েছিল!’ রাজনীতিতে পা রাখতেই চরম আক্ষেপ টলিউড নায়িকার

দীর্ঘদিন পর বড়পর্দায় কামব্যাক করতে চলেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী (Papiya Adhikari)। সোমনাথ সেন পরিচালিত নতুন ছবি ‘পাখির বাসা’-র মুক্তির ঠিক প্রাক্কালে বাংলা সিনেমা জগতের অন্দরমহলের এক অন্ধকার দিক নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। অতীতের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং তাঁর কেরিয়ারে ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি হওয়া বাধা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন এই দাপুটে অভিনেত্রী।

পোস্টার থেকে বাদ পড়া ও সরকারি হলে ব্রাত্য থাকার অভিযোগ

দীর্ঘ বিরতির পর রূপোলি পর্দায় ফেরার অনুভূতি শেয়ার করতে গিয়ে পাপিয়া অধিকারী অকপটে জানান, অতীতে তাঁর ছবি মুক্তি পেলেও নানা কারণে পোস্টারে তাঁর মুখ রাখা হয়নি। এমনকি তৎকালীন পরিস্থিতিতে নন্দনের মতো সরকারি প্রেক্ষাগৃহ বা মাল্টিপ্লেক্সেও তাঁদের ছবি মুক্তি পেতে দেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জেরে তাঁকে দীর্ঘদিন বড়পর্দায় ব্রাত্য করে রাখা হয়েছিল। তবে বর্তমান সময়ে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী।

‘পাখির বাসা’ সিনেমার গল্প ও অন্যান্য কুশীলবরা

পরিচালক সোমনাথ সেনের ‘পাখির বাসা’ ছবির মূল প্রেক্ষাপট আবর্তিত হয়েছে একাকিত্ব, পারিবারিক অবহেলা এবং জীবনের দ্বিতীয় ইনিংসে নতুন সম্পর্কের সমীকরণকে কেন্দ্র করে। ছবিতে অবসরপ্রাপ্ত বিপত্নীক বৃদ্ধ মনোময়ের চরিত্রে দেখা যাবে, যিনি পুত্র ও পুত্রবধূর গঞ্জনা সহ্য করে বেঁচে থাকেন। অন্যদিকে, শিক্ষিতা ও সুন্দরী বিধবা পরমার জীবনেও রয়েছে চরম নিঃসঙ্গতা। এই দুই বয়স্ক মানুষের জীবন কীভাবে একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠে এবং তারা নতুন করে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখে, সেটাই ছবির মূল বার্তা।

পাপিয়া অধিকারী ছাড়াও এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন বিশ্বজিৎ চৌধুরী, মৌবনী সরকার, কন্যাকুমারী, মৌসুমী ভট্টাচার্য, বোধিসত্ত্ব মজুমদার, সান্ত্বনা বসু, দীপাঞ্জন ভট্টাচার্য জ্যাক, শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায় অভিরাজ এবং দেব মন্ডল প্রমুখ।

‘একজন দাপুটে অভিনেত্রীকে বসিয়ে রাখা হয়েছিল’

রাজনীতি ও অভিনয় একসঙ্গে সামলানো প্রসঙ্গে পাপিয়া জানান, বিধায়কের দায়িত্ব ও এলাকার মানুষের কাজ সামলে সমানতালে শুটিং করা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বহু জায়গা থেকে মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব এলেও সময়ের অভাবে তিনি তা গ্রহণ করতে পারছেন না। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, “খারাপ লাগে এটাই যে, একজন দাপুটে অভিনেত্রীকে এভাবেই বসিয়ে রাখা হয়েছিল। যাঁরা আজ চরিত্রের অফার নিয়ে আমার বাড়ি আসছেন, তাঁরা আগেও জানতেন যে আমি এই কাজটা নিখুঁতভাবে করতে পারি। কিন্তু ছবি মুক্তির ভয়ে তখন কেউ এগোতে সাহস পাননি।”

দিন বদলেছে এবং বাংলা সিনেমার দর্শক আবারও তাঁকে নিজস্ব ছন্দে আপন করে নেবে—এমনটাই দৃঢ় বিশ্বাস এই গুণী অভিনেত্রীর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *