সংসদে ‘নিট’ প্রশ্ন উঠতেই বাকরুদ্ধ কেন্দ্র! মোদী সরকারের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ তুলে বিস্ফোরক সিজেপি নেতা সৌরভ দাস

লোকসভায় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET) এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সম্পর্কিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যুক্তিসঙ্গত প্রশ্নগুলি খারিজ করে দেওয়ার অভিযোগে কেন্দ্র সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র মুখ্য মুখপাত্র সৌরভ দাস। তাঁর জোরালো তোপ, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশেই সংসদে এই প্রশ্ন উত্থাপনে পরিকল্পিতভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংসদ চলাকালীন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের টানা অনুপস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
সংসদে প্রশ্ন খারিজের নেপথ্যে কী অভিযোগ?
রবিবার সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ‘এক্স’-এ একটি দীর্ঘ বার্তা পোস্ট করে সিজেপি-র মুখপাত্র অভিযোগ করেন, তামিলনাড়ুর নামাক্কাল কেন্দ্রের ডিএমকে (DMK) সাংসদ মাথেস্বরন ভি এস নিট পরীক্ষা ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং শিক্ষা মন্ত্রকের কাছে উত্তর চেয়ে তিনটি সেট প্রশ্ন জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু মোদী সরকার সেই প্রশ্নগুলি সংসদে পেশ করতে দেয়নি।
সৌরভ দাসের দাবি, খারিজ করে দেওয়া প্রশ্নগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল নিট-ইউজি ২০২৬ (NEET-UG 2026)-এর আবেদন ফি ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া, সরকারের প্রতি দেশবাসীর ক্রমাগত আস্থা হ্রাস পাওয়া, প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষায় সংস্কার এবং ছাত্রকল্যাণ সংক্রান্ত একাধিক সংবেদনশীল বিষয়। শুধু তাই নয়, দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি-র বিক্ষোভ চলাকালীন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পানীয় জল ও স্বাস্থ্যবিধির মতো ন্যূনতম পরিষেবা না দেওয়ার বিষয়টিতেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের স্পষ্ট জবাব চাওয়া হয়েছিল।
গণতন্ত্র ও জবাবদিহি নিয়ে বড় প্রশ্ন
সংসদে প্রশ্ন খারিজের জন্য যে নিয়মাবলীর দোহাই দেওয়া হয়েছে, তাকে “অদ্ভুত যুক্তি” বলে কটাক্ষ করেছেন সিজেপি মুখপাত্র। লোকসভার ৪১(২) নম্বর ধারার বিভিন্ন উপধারার উল্লেখ করে এই বৈধ প্রশ্নগুলি আটকে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
ক্ষোভ উগরে দিয়ে সৌরভ দাস বলেন, “যদি এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সংসদে করতে না দেওয়া হয়, তবে সরকার আর কোথায় জবাবদিহি করবে? তবে কি আবার রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হবে? নিট আন্দোলনের অত বড় সংকটময় দিনগুলিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কেন সংসদে এসে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব দিলেন না?”
তিনি আরও যোগ করেন, একজন নির্বাচিত সাংসদের সরকারকে প্রশ্ন করার অধিকার কোনো সাধারণ প্রক্রিয়া নয়, এটি সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল হৃদয়। বিশাল ক্ষমতার অধিকারী মন্ত্রীদের থেকে জবাবদিহি পাওয়ার জন্যই প্রশ্নোত্তর পর্বের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কেন্দ্র এভাবে সংসদের মুখ বন্ধ করতে পারে না, দেশের যুবসমাজকে উপেক্ষা করতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।