২০২৭-এর আগেই হু হু করে বাড়বে পৃথিবীর উষ্ণতা! বিশ্বজুড়ে চরম খরা, অতিবৃষ্টি ও প্রলয়ঙ্করী বন্যার পূর্বাভাস বিজ্ঞানীদের

প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে তৈরি হওয়া আবহাওয়ার এক বিরাট ও ভয়ংকর পরিবর্তন গোটা পৃথিবীকে এক চরম সংকটের মুখে দাঁড় করাতে চলেছে। বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক আশঙ্কা অনুযায়ী, ধ ধ করে বাড়তে থাকা সমুদ্রের উষ্ণতা যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে চলতি বছরের শেষ নাগাদ পৃথিবীর আবহাওয়া সম্পূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠতে পারে। আধুনিক মানবজাতির পর্যবেক্ষণ করা সময়ের মধ্যে এটিই হতে চলেছে ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো (El Nino)।
সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে থাকা বিপদের পাহাড়
ইতিমধ্যেই নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের জলের তাপমাত্রা ‘সুপার এল নিনো’-র পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। তবে বিজ্ঞানীদের কপালে প্রধান ভাঁজ ফেলেছে সমুদ্রের উপরিভাগের তাপমাত্রা নয়, বরং তার গভীরে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ তাপ।
বিশেষজ্ঞদের হিসাব বলছে, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের নিচের স্তরে যেভাবে তাপ সঞ্চিত হয়েছে, তা অতীতে ১৯৮২-৮৩, ১৯৯৭-৯৮ এবং ২০১৫-১৬ সালের মতো শক্তিশালী এল নিনোর রেকর্ডকেও বহু পিছনে ফেলে দিয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সমুদ্রের গভীরের এই বিপুল তাপ যখন উপরের দিকে উঠে আসবে, তখন বিশ্বজুড়ে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। জলবায়ু বিশ্লেষকদের মতে, উষ্ণতা বৃদ্ধির গতি এবং সমুদ্রের নীচের তাপ— সব মিলিয়ে একাধিক সূচকে এবারের এল নিনো সমস্ত পুরোনো রেকর্ড ভাঙতে চলেছে।
বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার চরম বিপর্যয়
সাধারণত মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের জল অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ হয়ে উঠলেই এল নিনোর সৃষ্টি হয়। কিন্তু এর প্রভাব কেবল ওই নির্দিষ্ট অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের স্বাভাবিক বায়ুপ্রবাহের ছন্দ পুরোপুরি বদলে যায়।
বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা অনুযায়ী, এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে আগামী দিনে বিশ্বের নানা প্রান্তে দেখা দিতে পারে:
-
তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ।
-
আকস্মিক অতিবৃষ্টি ও প্রলয়ঙ্করী বন্যা।
-
উর্বর জমিতেও ধ্বংসাত্মক খরা।
চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে, বিশেষ করে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের দিকে এল নিনো তার সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই পূর্বাভাস যদি সত্যি হয়, তবে অতীতের যেকোনো শক্তিশালী এল নিনোর তুলনায় এবারের পরিণতি হবে অনেক বেশি ভয়ংকর।
বিশ্ব উষ্ণায়নের সঙ্গে ভয়ংকর সংঘাত
প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানুষের তৈরি দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু পরিবর্তন। শক্তিশালী এল নিনো এবং লাগাতার বিশ্ব উষ্ণায়নের যৌথ প্রভাবে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনার চেয়ে সাময়িকভাবে প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ($2^\circ\text{C}$ warming) পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে পৃথিবীর আবহাওয়া আরও কত বেশি অস্থির হয়ে উঠবে, তা নিয়ে এখন থেকেই চরম সতর্কবার্তা জারি করেছেন আবহাওয়াবিদেরা। কোন অঞ্চলে ঠিক কী ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে, তা আগাম নির্দিষ্ট করে বলা না গেলেও, পৃথিবী যে এক চরম আবহাওয়ার অনিশ্চিত অধ্যায়ে প্রবেশ করছে, সে বিষয়ে আর কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।