৬০ পেরোতেও সানি দেওলের এনার্জি দেখে হিংসা করেন তরুণ হিরোরা! জানেন ‘গদর’ তারকার ফিটনেসের আসল রহস্য কী?

পর্দায় তাঁর গর্জন আর এক ঘুসিতে শত্রুকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্য বলিপাড়ার ইতিহাস। ‘দামিনী’ ছবির সেই বিখ্যাত সংলাপে ‘ঢাই কিলো কা হাত’-এর কথা আজও অনুরাগী থেকে শুরু করে সিনেমাপ্রেমীদের মুখে মুখে ঘোরে। কিন্তু এই সুঠাম শরীর, বিশাল পেশি আর অদম্য শক্তির উৎস কী? বয়সের কোঠা ৬০ পেরিয়ে সত্তরের কাছাকাছি পৌঁছলেও সানি দেওলের ফিটনেস এবং এনার্জি দেখে আজও নতুন প্রজন্মের নায়কেরা হিংসা করেন। সম্প্রতি নিজের জিম রুটিন, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা নিয়ে মুখ খুলেছেন ‘গদর’ খ্যাত এই তারকা।
জিমে নয়, সানির ফিটনেসের জাদু লুকিয়ে আছে খোলা বাতাসে
অনেকেরই ধারণা, সানি দেওল হয়তো দিনের বেশিরভাগ সময় জিমেই ভারী ওজন তুলে কাটান। তবে বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন। সানি জানান, নিয়মিত শরীরচর্চা তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও শুধুমাত্র কৃত্রিম জিম উপকরণের ওপর তিনি নির্ভর করেন না। জিমের পাশাপাশি আউটডোর স্পোর্টসের মধ্যে দিয়েই শরীরচর্চা করতেই তিনি বেশি ভালোবাসেন। সকালের শুরুতেই সাঁতার কাটা, স্কোয়াশ বা টেবিল টেনিস খেলা তাঁর পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। এছাড়া সুযোগ পেলেই হিমাচল প্রদেশের মনালির পাহাড়ি ট্রেইলে মাইলের পর মাইল ট্রেকিং বা হাইকিং করেন তিনি। পাহাড়ের খাঁজে হাঁটা এবং তাজা বাতাসে শ্বাস নেওয়াই তাঁর ফুসফুসের কার্যক্ষমতা ও পেশির জোর বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
খাদ্যাভ্যাস: খাঁটি পাঞ্জাবি খাবার, তবে কোনো ‘ফ্যাড ডায়েট’ নেই
খাবারের দিক থেকে সানি খাঁটি পাঞ্জাবি হলেও তাঁর খাদ্যতালিকা কিন্তু বেশ সুষম। কোনো ‘ফ্যাড ডায়েট’ (Fad Diet) বা ক্র্যাশ ডায়েটে বিশ্বাসী নন তিনি।
জলখাবার: বাড়িতে তৈরি সাধারণ খাবারেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। পরোটা, টাটকা মাখন, লস্যি বা দই দিয়েই অধিকাংশ দিন সকালের জলখাবার সারেন।
দুপুর ও রাতের খাবার: দুপুরের পাতে থাকে ভাত বা রুটি, ডাল, টাটকা সবুজ শাকসবজি এবং সালাড। চর্বিহীন প্রোটিনের উৎস হিসেবে মুরগির মাংস বা মাছও থাকে।
প্রসেসড ফুড বর্জন: বাইরের ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার এবং কৃত্রিম চিনি পুরোপুরি এড়িয়ে চলেন সানি। সন্ধ্যের দিকে খিদে পেলে ড্রাই ফ্রুটস, ফল বা ছাঁচ খান।
গ্ল্যামার জগতের বাইরে এক সহজ জীবনযাত্রা
গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের লেট-নাইট পার্টি বা জমকালো জীবনযাত্রা থেকে নিজেকে সবসময় দূরে রেখেছেন ধর্মেন্দ্র-পুত্র। সানি জানান, তিনি কোনোদিন ধূমপান করেননি এবং মদ্যপান থেকেও নিজেকে পুরোপুরি বিরত রেখেছেন। তাঁর মতে, শরীরের প্রাকৃতিক তেজ ও তারুণ্য বজায় রাখার জন্য সংযমী জীবনযাপনই সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।