প্রথম ছবি ফ্লপ হওয়ায় জুটেছিল ‘ব্যর্থ নায়িকা’র তকমা! মাধুরী দীক্ষিতের স্টার হয়ে ওঠার নেপথ্যের অজানা গল্প

১৯৮৪ সালের ‘অবোধ’ ছবি দিয়ে হিন্দি সিনেমায় যাত্রা শুরু করেছিলেন মাধুরী দীক্ষিত। তখন কে জানত, একদিন এই তরুণীই ব্লকবাস্টার ছবি, আইকনিক গান আর দুর্দান্ত নাচের জাদুতে ভারতীয় সিনেমার ‘ধক ধক গার্ল’ হয়ে উঠবেন! মাধুরী দীক্ষিতের অভিনয় জীবনের শুরুর দিনগুলোকে স্মরণ করে এক স্মৃতিচারণা করেছেন প্রবীণ চলচ্চিত্র সাংবাদিক দিলিপ ঠাকুর। সেকালের প্রতিষ্ঠিত তারকাদের ভিড়ে কীভাবে নিজের জমি শক্ত করেছিলেন মাধুরী, সেই গল্পই উঠে এসেছে তাঁর কলমে।

মারাঠি পদবি এবং ইন্ডাস্ট্রিতে অনভ্যস্ত এন্ট্রি
শ্রীদেবী, জয়া প্রদা, মীনাক্ষী শেষাদ্রি, রেখা এবং হেমা মালিনীর মতো হেভিওয়েট অভিনেত্রীদের রাজত্বকালে বলিউডে পা রেখেছিলেন মাধুরী। দিলিপ ঠাকুরের স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে, “১৯৮৪ সালে যখন ‘অবোধ’ ছবির প্রস্তাব এল, তখন ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে সংশয় ছিল যে একটি মারাঠি পদবি নিয়ে কেউ কি আদতে হিন্দি ছবিতে নিজের জায়গা পাকা করতে পারবেন?”
সাংবাদিকদের সঙ্গে মাধুরীর প্রথম সাক্ষাতের কথা আজও স্পষ্ট দিলিপের মনে। মুম্বইয়ের নটরাজ হোটেলে হাই-টি প্রেস মিটে জেবি নগরের জ্যামের কারণে বাবা-মাকে নিয়ে প্রায় দু’ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছেছিলেন নবাগতা মাধুরী। তবে ঢুকেই যেভাবে তিনি সবার কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়েছিলেন, তাঁর সেই বিনীত ও সাধারণ আচরণ প্রথম দিনেই সকলের মন জয় করে নিয়েছিল।

প্রাথমিক ব্যর্থতা ও ‘ফ্লপ হিরোইন’ তকমা
মাধুরীর কেরিয়ারের শুরুটা কিন্তু মোটেও মসৃণ ছিল না। ‘অবোধ’ বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছিল, আর তাঁর অভিনীত পরবর্তী ছবি ‘আওয়ারা বাপ’ বা ‘স্বাতি’ও বিশেষ সাড়া ফেলতে পারেনি। ফলস্বরূপ, প্রাথমিক পর্যায়ে তাঁকে ‘ফ্লপ হিরোইন’ তকমা দেওয়া হয়েছিল। তবে সুভাষ ঘাই, শেখর কাপুর, বনি কাপুর এবং গুলশন রাইয়ের মতো প্রখ্যাত প্রযোজকদের একটি ফুল-পেজ ট্রেড অ্যাড তাঁর কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। হাল ছাড় না দিয়ে তিনি কাজ চালিয়ে যান, যা পরবর্তীতে তাঁকে সফলতার শিখরে পৌঁছে দেয়।

‘তেজাব’-এর ম্যাজিক ও ‘এক দো তিন’ ঝড়
এন চন্দ্রের ‘তেজাব’ ছবির অভাবনীয় সাফল্যের হাত ধরেই মাধুরীর কেরিয়ার নতুন গতি পায়। এরপর ‘ত্রিদেব’ এবং ‘রাম লক্ষণ’ একের পর এক ব্লকবাস্টার হিট ছবি উপহার দিয়ে তিনি প্রমাণ করেন যে তিনি কেবল সম্ভাবনাময়ী নবাগতা নন, বরং ইন্ডাস্ট্রির পরবর্তী মেগাস্টার। তবে দিলিপ ঠাকুরের কাছে মাধুরীর সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাঁর নৃত্যশৈলী। মেহবুব স্টুডিওতে ‘এক দো তিন’ গানের সেই দুই দিনের শুটিংয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, মাধুরীর সেই ঝোড়ো নাচ আজও তাঁর চোখে ভাসে।

‘অবোধ’-এর অত্যন্ত শান্ত ও সাদামাটা সূচনা থেকে শুরু করে হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে এক কিংবদন্তি হয়ে ওঠার এই পথ প্রমাণ করে যে, স্টারডম সব সময় প্রথম দিন থেকেই স্পষ্ট হয় না; এর জন্য প্রয়োজন সঠিক জেদ আর একটি সঠিক সুযোগের!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *