“গালি দেওয়া কবে থেকে ফৌজদারি অপরাধ হলো?” প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রুচিকা সিংয়ের বিতর্কিত মন্তব্যের পক্ষ নিয়ে বিস্ফোরক সিজেপি!

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে রুচিকা সিং নামের এক তরুণীর আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্যের ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। সিজেপি (CJP) মুখপাত্র সৌরভ দাস এই ঘটনায় অভিযুক্ত রুচিকা সিংয়ের পক্ষ নিয়ে সরাসরি পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, প্রতিবাদের ভাষা ভুল হতে পারে, কিন্তু তার জেরে পুলিশি দমনপীড়ন বা ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
সম্প্রতি যন্তর মন্তরে একটি বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় রুচিকা সিং প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার জেরে নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় একটি ‘জিরো এফআইআর’ (Zero FIR) দায়ের করা হয়।
“এ দেশের মানুষ হাঁটাচলার সময়েও গালিগালাজ করে”: সৌরভ দাস
রুচিকা সিংয়ের সমর্থনে মুখ খুলে সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাস প্রশ্ন তোলেন, “এই দেশে গালিগালাজ করা কবে থেকে ফৌজদারি অপরাধ হয়ে গেল? এখানকার মানুষ তো হাঁটাচলার সময়েও গালিগালাজ করে।” তিনি আরও বলেন, কোনো বিক্ষোভে কেউ কটূক্তি বা গালিগালাজ করলে তার রাজনৈতিক বা নৈতিক নিন্দা করা যেতে পারে, কিন্তু তার জন্য সরাসরি পুলিশি ক্ষমতা বা ফৌজদারি আইনকে হাতিয়ার করা ঠিক নয়। প্রতিবাদী বা ছাত্রদের এভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো বন্ধ হওয়া উচিত।
সাংসদদের প্রসঙ্গ টেনে এনে সৌরভ আরও আক্রমণাত্মক সুরে বলেন, লোকসভার প্রায় ৫০ শতাংশ সদস্যের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ রয়েছে, কিন্তু সেই বিষয়গুলো নিয়ে কারো কোনো মাথা ব্যথা নেই। অথচ কেউ গালি দিলে তার পেছনে পুলিশ লাগিয়ে হেনস্তা করা হচ্ছে—এর তীব্র নিন্দা হওয়া প্রয়োজন। সিজেপির পক্ষ থেকে অবিলম্বে ছাত্রছাত্রীদের হয়রানি বন্ধ করা এবং রুচিকা সিংকে নিগ্রহ না করার আর্জি জানানো হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল এবং কী অভিযোগ?
গত ২৩ জুলাই যন্তর মন্তরে একটি বিক্ষোভ চলাকালীন রুচিকা সিং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পর গত বুধবার নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগকারীর মতে, রুচিকার ওই মন্তব্য সরাসরি প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর কার্যালয়ের মর্যাদাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে এবং এর ফলে জনশান্তি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ৩৫২, ৩৫৩(১) এবং ৩৫৬(১) ধারায় এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলোর মূলত শান্তিভঙ্গের উস্কানি, অসিত্ বা জনশান্তি বিরোধী বিবৃতি এবং মানহানির মতো অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত। বর্তমানে এই জিরো এফআইআর এবং সিজেপি নেতার বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।