এডিট করা ছবি ছড়িয়ে চরম নির্যাতন! আতঙ্কে পড়াশোনা ছাড়তে বাধ্য হলেন দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী, ফেঁসে গেল অভিযুক্ত

উত্তরপ্রদেশের বেরেলি জেলার বিথরি চেইনপুর এলাকা থেকে এক স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে শ্লীলতাহানি ও চরম মানসিক হেনস্থার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। দ্বাদশ শ্রেণির এক মেধাবী ছাত্রী অভিযোগ করেছেন যে, গ্রামেরই এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছে। শুধু রাস্তায় আটকে হুমকি দেওয়াই নয়, ভুক্তভোগীর এডিট করা আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই লাগাতার নির্যাতনে বিপর্যস্ত হয়ে ওই ছাত্রী নিজের পড়াশোনা পর্যন্ত চিরতরে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ।

রাস্তায় আটকানো এবং লাগাতার হুমকি
পুলিশের কাছে দায়ের করা লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী ছাত্রী জানিয়েছেন যে, তিনি বিথরি চেইনপুর এলাকারই একটি গ্রামের বাসিন্দা। ভগবতীপুরের বাসিন্দা সরওয়ান প্যাটেল নামের এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে উত্যক্ত করে আসছিল। অভিযুক্ত তার নিজের ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ওই ছাত্রীর সম্পাদিত বা এডিট করা ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে সমাজমাধ্যমে তাঁর মানহানি করছে।

ছাত্রীর আরও অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রায়ই তাঁর পিছু নিত, রাস্তা আটকে জোর করে বাইরে যাওয়ার জন্য চাপ দিত। ছাত্রীটি এই অন্যায়ে বাধা দিলেই তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে নানা ধরনের মারাত্মক হুমকি দেওয়া হতো। দিনের পর দিন চলতে থাকা এই হয়রানির জেরে ছাত্রীটি ও তাঁর পরিবার চরম মানসিক আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। লোকলজ্জা ও সমাজের ভয়ের কারণে একসময় তাঁর পক্ষে ঘর থেকে বেরিয়ে স্কুলে যাওয়াও অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়, যার ফলে বাধ্য হয়ে তাঁকে পড়াশোনা মাঝপথেই ছেড়ে দিতে হয়।

বিয়ে না দেওয়ার হুমকি ও পুলিশের তৎপরতা
ভুক্তভোগী পুলিশকে জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁকে অন্যত্র বিয়ে হতে না দেওয়ার হুমকিও দিচ্ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ভাইরাল হয়ে যাওয়ার ভয় এবং লাগাতার হুমকির মুখে পড়ে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন ওই কিশোরী। প্রথমে স্থানীয় স্তরে বা মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও অভিযুক্তের বেপরোয়া মনোভাব দেখে পরিবার শেষ পর্যন্ত আইনের দ্বারস্থ হয়।

ছাত্রীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বিথরি চেইনপুর থানা অভিযুক্ত সরওয়ান প্যাটেলের বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর ধারায় এফআইআর দায়ের করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সমস্ত পোস্ট, ছবি ও ভিডিও খতিয়ে দেখার পাশাপাশি অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে সম্ভাব্য সমস্ত জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *