ক্রিকেট ছাড়লেও কমেনি টাকার জোয়ার! সোলার স্টার্টআপে কোটি কোটি টাকা ঢেলে ফের চমকে দিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি

ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন সফল অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি আবারও স্টার্টআপ দুনিয়ায় এক বিশাল বিনিয়োগ করে খবরের শিরোনামে চলে এলেন। নিজের পারিবারিক বিনিয়োগ সংস্থা বা ফ্যামিলি অফিস ‘মিডাস ডিলস’-এর মাধ্যমে এবার ধোনি লগ্নি করলেন দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রুফটপ সোলার স্টার্টআপ ‘সোলারস্কোয়ার’-এ (SolarSquare)। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শুধু একজন লগ্নিকারী হিসেবেই নয়, বরং এই কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছেন ‘ক্যাপ্টেন কুল’। যদিও সুনির্দিষ্টভাবে ধোনি ঠিক কত টাকা এই সংস্থায় বিনিয়োগ করেছেন, তা গোপনই রাখা হয়েছে।

৫১০ কোটি টাকার মেগা ফান্ডিংয়ের অংশ
সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, মহেন্দ্র সিং ধোনির এই সাম্প্রতিক বিনিয়োগটি সোলারস্কয়ারের সদ্য সমাপ্ত ৫৩ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫১০ কোটি টাকার বিশাল ‘সিরিজ সি’ ফান্ডিং রাউন্ডেরই একটি অংশ বিশেষ। এই বড় অঙ্কের তহবিল সংগ্রহ অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছে তাদের পুরোনো বিনিয়োগকারী ‘লাইটস্পিড’। এছাড়াও লোয়ারকার্বন ক্যাপিটাল, রেইনম্যাটার এবং গুড ক্যাপিটালের মতো খ্যাতনামা সংস্থাও এই রাউন্ডে বিনিয়োগ করেছে। কোম্পানির শীর্ষ কর্তাদের মতে, এমএস ধোনির মতো ব্যক্তিত্বের এই অন্তর্ভুক্তি ভারতের ঘরোয়া রুফটপ সোলার বাজারের অপার সম্ভাবনার প্রতি তাঁদের আস্থার ভিত্তিকে আরও বহুগুণ শক্ত করে তুলেছে।

নতুন শহরগুলিতে ব্যবসার দ্রুত সম্প্রসারণ
সোলারস্কোয়ার এই নতুন মূলধনকে কাজে লাগিয়ে খুব দ্রুত তাদের ব্যবসায়িক পরিধি দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে চলেছে। আগামী দিনে এই কোম্পানি দেশের প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি নতুন শহরে তাদের পরিষেবা সম্প্রসারণ করার মেগা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। পাশাপাশি তাদের প্রধান অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে—উন্নত প্রযুক্তির প্ল্যাটফর্ম আরও শক্তিশালী করা, গ্রাহকদের জন্য সহজ ও সুলভ ঋণের ব্যবস্থা করা, বিক্রয়োত্তর পরিষেবা (After-sales service) এবং কাস্টমার কেয়ারের মান উন্নত করা এবং নতুন কর্মী নিয়োগ করা।

৫০ হাজারের বেশি বাড়িতে সফল পদার্পণ
২০১৫ সালে শ্রেয়া মিশ্র, নীরজ জৈন এবং নিখিল নাহার যৌথভাবে এই ‘সোলারস্কোয়ার’ প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে এই সংস্থাটি প্রধানত বাণিজ্যিক এবং শিল্প ক্ষেত্রে গ্রাহকদের পরিষেবা দিলেও, ২০২১ সালে তারা সরাসরি আবাসিক বা রেসিডেন্সিয়াল রুফটপ সোলার বাজারে প্রবেশ করে। বর্তমানে এই কোম্পানি গ্রাহকদের সৌর শক্তির পরামর্শ দেওয়া, সোলার প্যানেল ডিজাইন ও ইনস্টল করা, অর্থায়ন, নজরদারি থেকে শুরু করে রক্ষণাবেক্ষণের যাবতীয় কাজ একছাদের নিচে নিখুঁতভাবে প্রদান করে থাকে।

কোম্পানির দাবি অনুযায়ী, তারা ইতিমধ্যে দেশের ২৯টি রাজ্যের বিভিন্ন শহরে ৫০,াউন্ডের বেশি বাড়িতে সফলভাবে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপন করেছে। এখনও পর্যন্ত সোলারস্কোয়ার মোট ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি তহবিল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে এবং তাদের বর্তমান বার্ষিক আয়ের হার বা ARR প্রায় ১,০০০ কোটি টাকার আকাশছোঁয়া অঙ্কে পৌঁছে গেছে।

দ্রুত গতিতে বাড়ছে সৌর শক্তির বাজার
বর্তমানে ভারতের ঘরোয়া রুফটপ সোলার বা সৌর শক্তির বাজার অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশজুড়ে বিদ্যুতের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি, সরকারের আকর্ষণীয় সব ভর্তুকি প্রকল্প এবং পরিবেশবান্ধব সবুজ শক্তির (Green Energy) ক্রমবর্ধমান চাহিদা এই গোটা সেক্টরকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সোলারস্কোয়ারের প্রাক্কলন অনুযায়ী, একার ভারতেই ভারতের প্রায় ৭ কোটি বাড়িতে রুফটপ সোলার সিস্টেম বসানোর বিশাল সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে। শিল্প বিশেষজ্ঞ মহলের অনুমান, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের এই ক্লিনটেক বাজার প্রায় ১৫২ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রকাণ্ড অর্থনৈতিক ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।

২০২৬ সালে ধোনির হ্যাটট্রিক স্টার্টআপ বিনিয়োগ
চলতি ২০২৬ সালে সোলারস্কোয়ারে এই লগ্নি করার মাধ্যমে মহেন্দ্র সিং ধোনি তাঁর স্টার্টআপ বিনিয়োগের হ্যাটট্রিক করলেন। এর আগেও চলতি বছরে তিনি ‘কুকি’ এবং ‘লাইটফিউরি গেমস’-এর মতো উদীয়মান স্টার্টআপ সংস্থায় বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছিলেন। শুধু ধোনি একা নন, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় ক্রিকেটের একঝাঁক তারকা খেলোয়াড় মাঠের বাইরে স্টার্টআপ দুনিয়ায় ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। রোহিত শর্মা যেমন জনপ্রিয় ফিটনেস স্টার্টআপ ‘ফিটর’-এর মূল বিনিয়োগকারী ও ইকুইটি পার্টনার হয়েছেন, তেমনই অজিঙ্ক রাহানে জুতো প্রস্তুতকারক ব্র্যান্ড ‘চুপস’-এ এবং রিয়ান পরাগ ডিপটেক স্টার্টআপ ‘প্রক্সি’-তে বিনিয়োগ করেছেন। এই সমস্ত ঘটনা স্পষ্টতই প্রমাণ করে যে, বর্তমান প্রজন্মের ভারতীয় ক্রিকেটাররা এখন কেবল বাইশ গজের সীমানার মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং মাঠের বাইরেও বিভিন্ন নতুন ব্যবসা ও স্টার্টআপে অত্যন্ত সক্রিয় ও সফল ভূমিকা পালন করে চলেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *