লাল চকের জনবহুল এলাকায় অতর্কিত জঙ্গি হানা! গুলিতে শহিদ অমরনাথ যাত্রার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল

জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলা থেকে এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলার খবর সামনে এসেছে। ঐতিহাসিক লাল চকের ঠিক কাছাকাছি এলাকায় অতর্কিত এক জঙ্গি হানায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক কনস্টেবল নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। অতর্কিত এই গুলিবর্ষণের পর ত্রাস সৃষ্টি করে হামলাকারী জঙ্গিরা ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দিতে সক্ষম হয়। নৃশংস এই ঘটনার পরেই পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং পলাতক সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করতে ময়দানে নেমেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

লাল চকের কোটওয়াল গলিতে হামলা
পুলিশ কন্ট্রোল রুম (পিসিআর) অনন্তনাগ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভরদুপুরে আনুমানিক দুপুর ১২:৩৫ মিনিট নাগাদ অনন্তনাগ থানার অন্তর্গত লাল চকের ব্যস্ততম কোটওয়াল গলি এলাকায় পেহলু বা পুলিশ দলের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায় একদল অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসী। তারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে এলোপাথারি গুলি চালাতে শুরু করে।

এই কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী হামলায় ভারতীয় রেজিমেন্টের ৩য় ব্যাটালিয়নের হেড কনস্টেবল আশিক হুসেন ঘটনাস্থলেই বীরের মতো শহিদ হন। দিনের আলোয় জনবহুল এলাকায় এই ধরনের রক্তক্ষয়ী হানার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরেই বিশাল পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকাটি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঘিরে ফেলে এবং হামলাকারীদের সন্ধানে চিরুনি তল্লাশি অভিযান শুরু করে।

দায় স্বীকার করল লস্কর-ই-তৈবার প্রক্সি সংগঠন টিআরএফ
উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, শহিদ হাবিলদার আশিক হুসেন অত্যন্ত সংবেদনশীল অমরনাথ যাত্রার নিরাপত্তার সুনির্দিষ্ট দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। এদিকে, লস্কর-ই-তৈবার কুখ্যাত শাখা ও সহযোগী সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ বা টিআরএফ (TRF) সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি অফিসিয়াল পোস্ট শেয়ার করে এই হামলার দায় সম্পূর্ণ নিজেদের কাঁধে নিয়েছে। প্রসঙ্গত, জম্মু ও কাশ্মীর থেকে অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিলের ঠিক পরপরই ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে এই টিআরএফ আত্মপ্রকাশ করে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূলত নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈবারই একটি ছায়াসঙ্গী বা প্রক্সি সংগঠন হিসেবে সক্রিয় রয়েছে।

জনবহুল লাল চক এলাকা ও অতীতে জঙ্গলমহলের উপদ্রব
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, অনন্তনাগের এই লাল চক চত্বরটি ওই এলাকার অন্যতম সর্বাধিক জনবহুল ও বাণিজ্যিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। সাধারণ দিনগুলিতেও এখানে ক্রেতা-বিক্রেতা ও সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লেগেই থাকে। শ্রীনগরের মূল লাল চকের মতোই অনন্তনাগের এই চত্বরটি অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা ও জনসমাবেশের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে।

এর আগে গত কয়েকদিন আগেই রাজৌরির নিয়ন্ত্রণ রেখার (LoC) নিকটবর্তী তারকুন্দি অগ্রবর্তী এলাকায় একদল সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী জোর করে অনুপ্রবেশের অপচেষ্টা চালায়। সেই সময় ভারতীয় সেনা ও জঙ্গিদের মধ্যে টানা দেড় ঘণ্টা ধরে অত্যন্ত তীব্র বন্দুকযুদ্ধ চলেছিল। এছাড়া এর কিছুকাল আগেই নিরাপত্তা বাহিনী সোফিয়ানে এক বড়সড় সফল সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত লস্কর-ই-তৈয়বা কমান্ডার জাকির গানাইকে নিকেশ করেছিল। উপত্যকায় জঙ্গিদের এই মাথাচাড়া দেওয়ার প্রচেষ্টাকে গুঁড়িয়ে দিতে বর্তমানে যৌথ বাহিনী তাদের তল্লাশি অভিযান আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *