ডিম-ভাত উধাও, পাতে শুধু শুকনো মুড়ি-লঙ্কা! একুশে জুলাইয়ের প্রাক্কালে কোন চরম বার্তার ইঙ্গিত তৃণমূল কর্মীদের?

রাজনীতির পিচ সব সময় একরকম থাকে না। ক্ষমতার আলো যখন তীব্র থাকে, তখন থালায় থালায় থাকে গরম ডিম-ভাত কিংবা মণ্ডা-মিঠাই। কিন্তু সময় বদলালে পকেটে টান ধরে, দরজায় কড়া নাড়ে দুর্দিন। একুশে জুলাইয়ের প্রাক্কালে ঠিক এমনই এক মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক বদলের ছবি ধরা পড়ল কলকাতার রাজপথে।

ডিম-ভাতের বিলাসিতা বনাম শুকনো মুড়ির লড়াই
বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে কালীঘাট তৃণমূলের একাংশ কর্মীর সমাবেশ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চর্চা। ঘাসফুল শিবিরের একটা বড় অংশের কর্মীদের পাতে আজ নেই সেই চেনা ডিম-ভাতের আয়োজন। তার বদলে থালা বা ঠোঙায় স্থান পেয়েছে শুধুই শুকনো মুড়ি আর কাঁচা লঙ্কা। তবে এই ছবি দেখে প্রতিপক্ষ বা সমালোচকরা যাই ভাবুন না কেন, কর্মীদের চোখে-মুখে বিষাদের লেশমাত্র নেই; বরং রয়েছে এক কঠিন জেদ—’কুছ পরোয়া নেহি!’

এদিন উপস্থিত এক কর্মীর গলায় শোনা গেল পুরনো দিনের সেই লড়াইয়ের সুর। তিনি বলেন, “ক্ষমতার অলিন্দে পৌঁছানোর বহু আগেই তো এই শুকনো মুড়িই ছিল আমাদের লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় জোগানদার। মিছিলে হাঁটার আগে কিংবা পোস্টার মেরে ক্লান্ত দুপুরে ওই একমুঠো মুড়িই শরীরকে চাঙ্গা করত।” তাঁদের মতে, ডিম-ভাত হয়তো সুদিনের সাময়িক বিলাসিতা, কিন্তু শুকনো মুড়িটাই হলো আসল রাজনৈতিক জ্বালানি।

অন্য ছিল অতীতের একুশে জুলাইয়ের ছবি
কালের নিয়মে একুশে জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশ মানেই ছিল এক অন্য উৎসবের মেজাজ। দূর-দূরান্তের জেলা থেকে লাখ লাখ দলীয় কর্মী-সমর্থক পা রাখতেন কলকাতায়। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা সেই হাজার হাজার মানুষের খিদে মেটাতে অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে ডিম-ভাতের সুব্যবস্থা করা হতো। কালের নিয়মে সেই ডিম-ভাত নিছক খাবারের তালিকায় সীমাবদ্ধ না থেকে কর্মী-সমর্থকদের মিলনমেলার প্রধান আকর্ষণ এবং বঙ্গ রাজনীতির এক বিশেষ সাংস্কৃতিক প্রতীকে পরিণত হয়েছিল।

ফুরিয়ে যায়নি লড়াকু মনোভাব
আজ পরিস্থিতি বদলেছে, ক্ষমতার সমীকরণও ভিন্ন। কিন্তু বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে জড়ো হওয়া কর্মীদের মতে, দলের দুঃসময় এলেও লড়াইয়ের তাগিদ একটুও কমেনি। তাই বাধ্য হয়েই হোক বা পরিস্থিতির টানে, ক্ষমতায় আসার আগের সেই পুরনো ভরসা—শুকনো মুড়িতেই ফিরে যেতে হয়েছে তাঁদের।

এক কর্মী স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এভাবে দমিয়ে রাখা যাবে না। পেট খালি থাকলেও রাজনৈতিক জেদ আর শুকনো মুড়ি চিবোনোর শব্দেই ফুটে ওঠে চরম বার্তা—লড়াইয়ের ময়দান আমরা ছাড়ছি না, খেলা এখনও শেষ হয়নি!” শহিদ দিবসের ঠিক আগে তৃণমূল কর্মীদের এই নাছোড়বান্দা মনোভাব বাংলা রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *