“ভালোবাসার টানে কর্মীরা আসছেন!” বিড়লা তারামণ্ডলের মঞ্চ থেকে কী বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ এক অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন একুশে জুলাই (Shahid Diwas)। অতীতে প্রতি বছর এক ছাতার তলায়, একটিমাত্র মহাযজ্ঞের মতো পালিত হওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদ দিবস আজ সম্পূর্ণ খণ্ডিত। রাজ্যে রাজনৈতিক ভরাডুবির পর এই প্রথম পালিত হচ্ছে একুশে জুলাই, আর তার জেরে মমতার তৈরি জোড়াফুল শিবির আজ কার্যত টুকরো টুকরো। দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিভাজনের জেরে তিলোত্তমা এবং দেশের রাজধানীতে আজ পালিত হচ্ছে পৃথক পৃথক শহিদ সমাবেশ।

মমতার এক্স হ্যান্ডেল বার্তা ও শ্রদ্ধার্ঘ্য
আজকের এই ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ দিনে সোশ্যাল মিডিয়া এক্স (X)-এ শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন,

“#শহীদদিবসে, ১৯৯৩ সালের এই দিনে যাঁরা মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছিলেন, সেই শহীদদের প্রতি আমি আমার গভীর শ্রদ্ধা জানাই। আজকের এই দিনটি গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় ‘মা-মাটি-মানুষ’ পরিবারের প্রতিটি সদস্যের সংকল্পকে আরও সুদৃঢ় করুক। তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের প্রতিনিয়ত অনুপ্রেরণা জোগায় এবং তাঁদের এই অবদান আমাদের আন্দোলনের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে।”

তবে নেত্রীর এই আবেগঘন বার্তার বাইরেও বাস্তব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ বারের একুশে জুলাইয়ের ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা।

তিন ধারায় বিভক্ত এবারের শহিদ দিবস
এবারের একুশে জুলাইয়ের সবচেয়ে বড় চমক হলো তৃণমূল কংগ্রেসের বহুমুখী বিভাজন। আজ একই দিনে তিনটি ভিন্ন ধারায় পালিত হচ্ছে শহিদ দিবস:
১. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল সভা: আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে মূল শহিদ দিবসের সভা পরিচালনা করছেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মঞ্চে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত রয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র এবং দোলা সেনের মতো দলের হেভিওয়েট নেতারা। নানা বিধিনিষেধ ও টানাপোড়েনের পরেও সাধারণ কর্মীদের ‘ভালোবাসার টানে’ সভাস্থলে উপচে পড়া ভিড় দেখা গিয়েছে বলে দাবি করেছেন মমতা।
২. ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী শিবির: অন্যদিকে, মূল দল থেকে দূরত্ব তৈরি করে তৃণমূলেরই একটি ভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কলকাতার মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে পৃথকভাবে বিশাল শহিদ সমাবেশের আয়োজন করেছে।
৩. দিল্লির রাজঘাটে এনসিপিআই (NCPI) শিবির: সবচেয়ে বড় চমক এসেছে প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের তরফ থেকে। তৃণমূল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া হেভিওয়েট নেতা-সাংসদ যেমন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শতাব্দী রায়ের মতো নেতারা সম্প্রতি ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া’ বা এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন। আজ তাঁরা সংসদীয় অধিবেশনের মাঝেই দিল্লির রাজঘাটে গিয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক বিপর্যয়, তীব্র অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং চারমুখী লড়াইয়ের চরম উত্তেজনার মধ্যেই আজ পালিত হচ্ছে একুশে জুলাই—যা বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের গতিপ্রকৃতি আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেবে, তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *