কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে এখন চায়ের দোকান, মাসে আয় ১ লাখ! ভাইরাল তরুণের গল্প

কর্পোরেট অফিসের এসি ঘর, মাসের শেষে নিশ্চিত বেতন—অনেকের কাছেই এই জীবনটা স্বপ্নের মতো। কিন্তু সেই গণ্ডি পেরিয়ে কেউ যদি সফল উদ্যোক্তা হয়ে ওঠেন, তবে তা অবাক হওয়ার মতোই বটে! সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে এমনই এক যুবকের গল্প, যিনি ৩৮,০০০ টাকার স্থিতিশীল চাকরি ছেড়ে চায়ের দোকান খুলে আজ সফল।
চাকরি ছেড়ে চায়ের দোকান!
টেলিপারফরম্যান্স-এর মতো সুপরিচিত কোম্পানিতে কাজ করতেন ওই যুবক। মাসিক বেতন ছিল ৩৮,০০০ টাকা। কিন্তু ক্যারিয়ারের সীমাবদ্ধতা এবং ক্রমবর্ধমান খরচের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে গত মে মাসে তিনি চাকরি ছাড়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তে অবাক হয়েছিলেন প্রতিবেশী ও পরিচিতরা। সবাই ভেবেছিলেন, এটি বোধহয় তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। কিন্তু আজ তিনি তার সাফল্যের মাধ্যমে সব সমালোচনার যোগ্য জবাব দিয়েছেন।
সাফল্যের চাবিকাঠি: ২ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ
অঙ্কিত পান্ডে নামে এক ব্যক্তি এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ এই সাফল্যের গল্প তুলে ধরেছেন। ওই যুবক একটি অটো স্ট্যান্ডের পাশে প্রায় ২ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে চায়ের দোকান শুরু করেন। দোকানটিকে সুন্দরভাবে সাজানোর পাশাপাশি তিনি দুজন মহিলা কর্মীকেও কাজে নিয়োগ করেন। ১০ টাকার সাধারণ চা এবং ২০ টাকার প্রিমিয়াম চা—এই সহজ মেন্যুতেই তিনি বাজিমাত করেছেন।
মাসে ১ লক্ষ টাকা নিট আয়
অঙ্কিতের পোস্ট অনুযায়ী, অটো স্ট্যান্ডের পাশে দোকান হওয়ায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০০ কাপ চা বিক্রি হয়। এতে দৈনিক টার্নওভার দাঁড়ায় ৬,০০০ টাকা এবং মাসিক টার্নওভার ১.৮ লক্ষ টাকায় পৌঁছায়। দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন ও কাঁচামালের খরচ বাদ দিয়েও প্রতি মাসে ওই যুবক এখন ঘরে তুলছেন ১ লক্ষ টাকা! অর্থাৎ, আগের চাকরির তুলনায় তার আয় এখন প্রায় তিনগুণ।
ব্যবসা সম্প্রসারণ ও নতুন সংযোজন
সাফল্য পাওয়ার পরই থেমে থাকেননি তিনি। ব্যবসার পরিধি বাড়াতে চায়ের দোকানের পাশেই একটি নতুন স্ন্যাক কাউন্টার খুলেছেন। এখন সেখানে চা-এর পাশাপাশি বড়া পাও, সামোসা এবং জিলাপির মতো মুখরোচক খাবারও পাওয়া যাচ্ছে। এই সম্প্রসারণের আনন্দ উদযাপন করতে তিনি প্রতিবেশী অঙ্কিতকে মিষ্টির বাক্স দিয়ে তার সাফল্যের ভাগীদার করেছেন।
প্রেরণাদায়ক বার্তা
অঙ্কিত পান্ডের ভাষায়, “যদি তিনি আগের চাকরিতেই থাকতেন, তবে আজও ৩৮ হাজার টাকাই আয় করতেন এবং বেতন বৃদ্ধির অপেক্ষায় দিন গুনতেন।” অর্থাৎ, কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক পরিকল্পনা থাকলে যে কোনো পেশাতেই নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা সম্ভব।