“অক্ষরজ্ঞানহীন পড়ুয়া থাকলে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা!”-প্রাথমিক শিক্ষায় কড়া নিয়ম?

রাজ্যের প্রাথমিক স্কুলগুলিতে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং আদর্শ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বড় পদক্ষেপ নিল স্কুলশিক্ষা দপ্তর। রবিবার আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটায় এক অনুষ্ঠানে স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন স্পষ্ট জানিয়েছেন, এবার থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়াদের শিক্ষার মান যাচাইয়ের জন্য ‘অডিট’ চালু করা হবে।

পড়ুয়াদের অডিট ও শিক্ষকদের দায়বদ্ধতা:

  • শিক্ষার মান যাচাই: প্রতি বছর তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের অক্ষরজ্ঞান ও সাধারণ শিক্ষার মান পরীক্ষা করা হবে।

  • শাস্তি ও পুরস্কার: অডিটে যদি দেখা যায় কোনো স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়ারা ঠিকমতো অক্ষরজ্ঞান অর্জন করতে পারেনি, তবে দায়ভার নিতে হবে সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষকদের। সেক্ষেত্রে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্টোদিকে, পড়ুয়ারা সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হলে শিক্ষকদের পুরস্কৃত করা হবে।

শিক্ষক বদলি ও উদ্বৃত্ত (সারপ্লাস) নীতি: শিক্ষক বদলি সংক্রান্ত বিষয়েও একগুচ্ছ নিয়ম ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী:

  • বয়োজ্যেষ্ঠদের অগ্রাধিকার: স্কুলে উদ্বৃত্ত বা সারপ্লাস শিক্ষক থাকলে, বয়োজ্যেষ্ঠরা নিজের পছন্দের স্কুলে বদলির জন্য ‘অপশন’ বা সুযোগ পাবেন।

  • কনিষ্ঠদের বদলি: কোনো উদ্বৃত্ত শিক্ষক যদি ‘অপশন’ না দেন, তবে কনিষ্ঠ শিক্ষকদের তালিকা তৈরি করে তাঁদের একই সার্কেলের মধ্যে পছন্দমতো স্কুলে বদলি করা হবে।

  • ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত: মানসম্মত শিক্ষার জন্য প্রতি ৩০ জন পড়ুয়াপ পিছু ১ জন শিক্ষক থাকার নীতি কার্যকর করা হবে।

  • পার্শ্ব-শিক্ষকদের বদলি: বিয়ের কারণে অন্য জায়গায় যেতে বাধ্য হওয়া পার্শ্ব-শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও বদলির সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে দপ্তর।

প্রধান শিক্ষকদের দায়িত্ব: শিক্ষকরা প্রাইভেট টিউশন পড়ান কি না, সে বিষয়ে নজরদারি চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের।

মন্ত্রীর কথায়, “এই পদ্ধতির মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরেই শিক্ষার প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠবে। ভবিষ্যতে পড়ুয়াদের শিক্ষার ভিত মজবুত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।” খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *