বিশ্বকাপ ফাইনালের হাফটাইম শো! নজরকাড়া পারফরম্যান্স নাকি ফুটবলের অপচয়? তোলপাড় বিশ্বজুড়ে!

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল শুধু স্পেনের ঐতিহাসিক জয়ের জন্যই স্মরণীয় হয়ে থাকবে না, এই ম্যাচটি ইতিহাসে নাম লিখিয়েছে ফুটবলের সর্বকালের প্রথম ‘হাফটাইম শো’-এর জন্য। আমেরিকার সুপার বোলের ধাঁচে আয়োজিত এই জমকালো অনুষ্ঠান একদিকে যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করেছে, অন্যদিকে তৈরি করেছে চরম বিতর্ক।
ঝলমলে তারার মেলা
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মূল পরিকল্পনায় ছিলেন কোল্ডপ্লের ক্রিস মার্টিন। ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনাল্ডো ও রোনালদিনহোর এন্ট্রি দিয়ে শুরু হওয়া এই শো-তে পারফর্ম করেন ম্যাডোনা। এরপর বিটিএস-এর ‘ডাইনামাইট’-এর ছন্দে মেতে ওঠে গ্যালারি। অভিনেতা জেসন সুডেইকিসকে সঙ্গে নিয়ে জাস্টিন বিবার পরিবেশন করেন তাঁর আবেগঘন গান। সবশেষে শাকিরা গেয়ে শোনান বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যান্থেম ‘Dai Dai’।
ফুটবল নাকি কনসার্ট? রুনি-কিনের তোপ
২৭ মিনিট দীর্ঘ এই হাফটাইম শো নিয়ে বেজায় চটেছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। বিবিসি-র আলোচনায় ইংল্যান্ডের প্রাক্তন তারকা ওয়েন রুনি স্পষ্ট জানান, তিনি শিল্পীদের ভক্ত হলেও ফুটবলের মাঝে এমন দীর্ঘ বিরতি একেবারেই মানতে পারেননি। রুনির বিদ্রূপ, “অনুষ্ঠানের সেরা মুহূর্ত ছিল যখন সেটা শেষ হয়!” ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রাক্তন অধিনায়ক রয় কিনও রুনির সুরেই কথা বলেছেন। তাঁর মতে, স্টেডিয়ামের দর্শকদের জন্য এটি উপভোগ্য হলেও টিভির সামনে বসে থাকা ফুটবলপ্রেমীদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়েছে এই শো।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্বিধাবিভক্ত নেটপাড়া
অনলাইনেও চলছে প্রবল বিতর্ক। এক পক্ষের মতে, ফুটবল আর বিনোদনের সংমিশ্রণ আধুনিক খেলার প্রসারে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, ফুটবল পিউরিটানদের দাবি, আমেরিকা তাদের বাণিজ্যিক মানসিকতায় ফুটবলের জৌলুস কমিয়ে দিচ্ছে। অনেকেই লিখেছেন, “আমরা কনসার্ট দেখতে আসিনি, এসেছি বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে।”
মাঠের লড়াইয়ে জয়ী স্পেন
এত বিতর্কের ভিড়েও ফুটবলীয় লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছে স্পেন। অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলটি লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে স্তব্ধ করে দেয়। ১৬ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলো স্প্যানিশ আর্মাডা।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এই ‘সুপার বোল’ সংস্করণ কি ফুটবলের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল, নাকি দীর্ঘ বিনোদনের এই সংস্কৃতি খেলার আবেগকে ম্লান করে দিল— এই প্রশ্নই এখন বিশ্ব ফুটবল মহলে আলোচনার কেন্দ্রে।