‘পুজো দখল নয়, সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষা’- কলেজ স্কোয়ারের প্রস্তাব ফিরিয়ে কড়া বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের

কলকাতা তথা রাজ্যের অন্যতম বড় দুর্গাপূজা ‘কলেজ স্কোয়ার’-এর পুজোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছিলেন উদ্যোক্তারা। গত তিন মাস ধরে চলা এই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়ে দিলেন, তিনি এই পুজোর দায়িত্ব নিচ্ছেন না। শুধু কলেজ স্কোয়ার নয়, রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে কোনো পুজোরই সভাপতি বা দায়িত্বশীল পদে তিনি থাকছেন না বলে স্পষ্ট করেছেন।

‘পুজো দখলের’ সংস্কৃতিতে ঘোর আপত্তি
এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “এলাকার বিধায়ক বা মন্ত্রীরা পুজোর সভাপতি হতেই পারেন, কিন্তু তার মানে এই নয় যে রাস্তায় বেরিয়ে প্রতিটি পুজোর দায়িত্ব বিজেপি সাংসদ বা নেতাদের নিতে হবে। আমি এই সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দেব না।” তৃণমূল কংগ্রেসের জমানায় রাজ্যের বিভিন্ন পুজো কমিটি রাজনৈতিক নেতাদের দখলে চলে যাওয়ার যে প্রবণতা দেখা দিয়েছে, তার বিরুদ্ধেই মূলত এই কড়া বার্তা দিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি।

স্পষ্ট অবস্থান: রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, পুজো হোক উৎসবের আমেজে
শমীক ভট্টাচার্যের এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তাঁর মতে:

পুজো দখলের রাজনীতি: পুজোর পবিত্রতাকে ক্ষুণ্ণ করে পুজো কমিটিতে রাজনৈতিক আধিপত্য বজায় রাখা কাম্য নয়।

বিজেপি’র অবস্থান: দলের পক্ষ থেকে কোনোভাবেই পুজোর খুঁটিপুজো বা কমিটি দখলের মতো বিষয়গুলোকে উৎসাহ দেওয়া হবে না।

ঐক্যবদ্ধ বার্তা: নিজের দলের বিধায়ক বা নেতাদের ক্ষেত্রেও তিনি এই একই নীতি বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

পুজো কমিটির ওপর নজর
খুঁটিপুজোর মরশুম শুরু হওয়ার আগেই শমীক ভট্টাচার্যের এই কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিজেপি এবার পুজোর রাজনীতি থেকে নিজেকে কিছুটা দূরত্বেই রাখতে চাইছে। অতীতে শাসক দলের বিরুদ্ধে পুজো কমিটিগুলো দখলের যে অভিযোগ বারবার উঠেছে, সেই প্রেক্ষাপটে শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *