বিনা পুঁজিতেই মাস গেলে মোটা আয়! ১২০ বছরের পুরনো এই ব্যবসায় কপাল ফিরল হালদার পরিবারের

ব্যবসায় মূলধন জোগাড় করা বা লোকসানের ভয়—এসব নিয়েই বেশিরভাগ মানুষ নতুন কিছু শুরু করতে ভয় পান। কিন্তু নদীয়ার রানাঘাটে এমন এক ব্যবসার খোঁজ মিলেছে, যেখানে নেই কোনো মূলধন ঘাটতির ভয়, নেই কোনো ট্যাক্সের ঝামেলা। প্রায় ১২০ বছর ধরে গঙ্গার জল বিক্রি করেই সংসার চালাচ্ছেন রানাঘাটের সাত নম্বর ওয়ার্ডের হালদার পরিবার।
বংশ পরম্পরায় সফল ব্যবসা
চূর্ণী নদীর ধারে এই ব্যবসার হাল ধরেছেন অশোক হালদার। এক সময় যে জল ৫০ পয়সা ঘড়া হিসেবে বিক্রি হতো, আজ তা ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে প্লাস্টিক জারে বিক্রি হয়। এই ব্যবসা করেই অশোকবাবু নিজের সংসার চালানো থেকে শুরু করে সন্তানের বিয়ে—সবটাই সামলেছেন। তিনি জানান, কোনো বিশাল বিনিয়োগ ছাড়াই এই ব্যবসা থেকে ভালো মুনাফা অর্জন সম্ভব।
কেন গঙ্গা জলের চাহিদাই আকাশচুম্বী?
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। গণেশ পুজো থেকে দুর্গা পুজো, অন্নপ্রাশন থেকে উপনয়ন, এমনকি শ্রাদ্ধানুষ্ঠান বা গৃহপ্রবেশ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই গঙ্গা জলের ভূমিকা অপরিহার্য। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে এই জলের পবিত্রতা ও প্রয়োজনীয়তাই এর চাহিদাকে সব সময় তুঙ্গে রাখে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ব্যবসার নতুন মোড়
ব্যবসায়ী অশোক হালদারের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের প্রবণতা অনেকটা বেড়েছে। রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তনে বিভিন্ন জায়গায় রাম পুজো বা হনুমান পুজোর মতো অনুষ্ঠানের আয়োজন বাড়ছে, যার সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে তাঁর ব্যবসায়। তিনি আশাবাদী, ভক্তিপূর্ণ মানুষের সংখ্যা বাড়লে তাঁর এই ব্যবসার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।
নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বার্তা
এই ব্যবসার সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এতে কোনো ব্যবসায়িক শত্রুতা বা তীব্র প্রতিযোগিতা নেই। তাই যারা নতুন কোনো লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে এক দারুণ সুযোগ। কোনো ঝুঁকি ছাড়াই বংশ পরম্পরায় চলে আসা এই ব্যবসা প্রমাণ করে, নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলে অতি সাধারণ পণ্যও হয়ে উঠতে পারে সাফল্যের চাবিকাঠি।