বাজেট পেশ হতেই তোলপাড়! বাচ্চাদের মিড-ডে মিল থেকে কি বাদ যাচ্ছে ডিম? মুখ খুললেন কুণাল ঘোষ

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। আর সেই প্রথম বাজেটেই শিক্ষা ও পুষ্টি ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক তথা চমকপ্রদ ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। কলকাতা পুরসভা এলাকার সমস্ত সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে এবার মিড-ডে মিল (Mid-Day Meal) সরবরাহ করার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে আন্তর্জাতিক আধ্যাত্মিক সংস্থা ইসকন (ISKCON)-কে।
দিল্লি, মহারাষ্ট্রের মতো দেশের আটটি রাজ্যে সফলভাবে মিড-ডে মিল পরিচালনার পর, এবার পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে কলকাতার স্কুলগুলিতেও এই গুরুদায়িত্ব সামলাবে ইসকন। একই সঙ্গে প্রাথমিক স্তরের পড়ুয়াদের জন্য মধ্যাহ্নভোজ খাতে বরাদ্দও উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়িয়েছে নতুন সরকার। তবে এই ঘোষণার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতি ও অভিভাবকদের মনে এক মস্ত বড় প্রশ্ন ও বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করেছে—তাহলে কি খুদে পড়ুয়াদের পাতে আর ডিম পড়বে না?
“বাচ্চারা ডিম থেকে বঞ্চিত হবে!” সুর চড়ালেন কুণাল ঘোষ
সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর নানা মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইসকনের নিজস্ব ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক রীতিনীতি অনুযায়ী তাদের খাবার সম্পূর্ণ নিরামিষ হয়, ফলে সেখানে ডিম থাকার কোনো সম্ভাবনাই নেই। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন:
“ইস্কনকে দিয়ে মিড-ডে মিল পরিচালনা করার একটা প্রস্তাব এনেছে সরকার। আমরা ইস্কনকে যথেষ্ট সম্মান জানাই, কিন্তু ইস্কনে নিরামিষ খাবার হয়। অন্যদিকে মিড-ডে মিলে বাচ্চাদের আলাদা আকর্ষণ থাকে। ইস্কন এটা করলে তাঁদের নীতির বাইরে যেতে হবে, ফলে বাচ্চারা ডিম থেকে বঞ্চিত হবে। আমরা সরকারকে এই সিদ্ধান্ত পুনঃবিবেচনা করতে বলব।”
আরও পড়ুন:
পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে টাকা, শিক্ষাশ্রী স্কলারশিপের আবেদন কোথায় করা যাচ্ছে?
মস্তিষ্কের কোষ নষ্ট করে ফিতাকৃমি! বর্ষায় সস্তায় পেলেও ভুলেও খাবেন না এই ৭ সবজি
ডিমের বিকল্প কী? মেনু নিয়ে বড় খোলসা করল ইসকন
ডিম নিয়ে তৈরি হওয়া এই আশঙ্কার মাঝেই কলকাতার স্কুলগুলির খাদ্যতালিকা এবং পুষ্টিগুণ নিয়ে মুখ খুলেছেন কলকাতা ইসকনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমন দাস। তিনি জানান, ইসকনের ‘অন্নামৃত ফাউন্ডেশন’ (Annamrita Foundation) ২০০৪ সাল থেকে ভারতের লক্ষ লক্ষ শিশুর কাছে পুষ্টিকর মিড-ডে মিল পৌঁছে দিচ্ছে।
কলকাতার প্রজেক্টের জন্য সম্পূর্ণ আধুনিক পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “নতুন করে একদম ফাইভ স্টার হোটেলের মতো কিচেন তৈরি করা হবে। সবটাই হবে ‘নন-টাচ’ এবং অটোমেটিক কিচেন।”
ডিম না থাকার প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানান, ডিম না থাকলেও শিশুদের প্রোটিন ও ভিটামিনের ঘাটতি মেটাতে মেনুতে থাকবে জিভে জল আনা একাধিক পুষ্টিকর নিরামিষ পদ। রাজমা, সয়াবিন থেকে শুরু করে রকমারি টাটকা শাক-সবজি দিয়ে তৈরি বাচ্চাদের পছন্দসই বিভিন্ন আইটেম পরিবেশন করা হবে।
অর্থাভাবের বিষয়ে রাধারমন বাবু যোগ করেন, এই কাজের জন্য সরকারি অনুদান সামান্য (৩ টাকার কিছু বেশি) মিললেও, বিশ্বব্যাপী ইসকনের যে বিশাল ডোনার নেটওয়ার্ক রয়েছে, তাঁদের সাহায্যেই এই বিপুল খরচের ঘাটতি পূরণ করা হবে।