টলিউড ভাঙার খেলা, সঙ্গে মেসির কাঁধে হাত নিয়ে বিস্ফোরক বিতর্ক! ঋতুপর্ণা ফাঁস করলেন ‘বিধায়ক’ পাপিয়ার গোপন তথ্য

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে টলিউডের হাই-প্রোফাইল টালিগঞ্জ আসন থেকে জয়ী হয়েছেন বিজেপি তারকা পাপিয়া অধিকারী। ২০২১ সালের উলুবেরিয়া কেন্দ্রের পরাজয় ভুলে এবার রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটেছে তাঁর। আর বিধায়ক নির্বাচিত হতেই টলিউড ইন্ডাস্ট্রির খোলনলচে বদলে ফেলতে কোমর বেঁধে নেমেছেন আশির দশকের এই জনপ্রিয় নায়িকা।
বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে টলিউডের পুরনো গিল্ড এবং টেকনিশিয়ানদের প্রভাবশালী ফেডারেশন ভেঙে দেওয়ার ডাক দেওয়া হয়েছে। টলিউডের সমস্ত স্তরের কর্মীদের একটি নতুন ছাতার তলায় আনার মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার ফ্রন্টলাইন সামলাচ্ছেন স্বয়ং পাপিয়া অধিকারী এবং রুদ্রনীল ঘোষের মতো তারকা নেতারা।
‘আমসত্ত্ব-আচার’ এবং ঋতুপর্ণার সেই ফোন: কী এই রসায়ন?
সম্প্রতি ‘নেভারমাইন্ড’ সিনেমার ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠানে এক মঞ্চে ধরা দিয়েছিলেন নবনির্বাচিত বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী এবং টলিউড কুইন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। টলিগঞ্জের নতুন বিধায়কের থেকে ইন্ডাস্ট্রির প্রত্যাশা ঠিক কী? মিডিয়ার এই প্রশ্নের জবাবে ঋতুপর্ণা তাঁদের দীর্ঘদিনের গভীর ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা ফাঁস করেন।
ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বলেন:
“পাপিয়াদির কাছে এখন চাওয়া না, সবসময়ই চাওয়া। পাপিয়াদি আমার খুব কাছের। যেদিনকে ভোটের রেজাল্ট বেরিয়েছে, প্রথম ফোন আমি করেছি। আমাদের সম্পর্ক বহু বছরের। পাপিয়াদি আমার পরিচালকও, আমরা একসঙ্গে ছবিও করেছি।”
ঋতুপর্ণার কথার সূত্র ধরেই পাপিয়া অধিকারী হাসিমুখে যোগ করেন, “ওর বাড়িতে গেলে ও আমাকে আমসত্ব খাওয়ায়, আমার বাড়িতে এলে আমি আচার খাওয়াই।” এখানেই শেষ নয়, পাপিয়া অধিকারীর গ্ল্যামার ও নাচের প্রশংসা করে ঋতুপর্ণা আবেগঘন সুরে বলেন, “পাপিয়াদির মতো ‘বিবি পায়রা’ কেউ নাচতে পারে না! গর্জিয়াস।” ১৯৬১ সালের ১৮ আগস্ট জন্ম নেওয়া এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী আজও দর্শকদের মনে তাঁর কালজয়ী ‘বিবি পায়রা’ গানের জন্য অমলিন।
‘মেসি-কাণ্ডে’ প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর শ্রীঘর দশা? পাপিয়ার বড় চ্যালেঞ্জ
নির্বাচনে তৃণমূলের হেভিওয়েট অরূপ বিশ্বাসকে (প্রতিবেদনে অরূপ ঘোষ হিসেবে উল্লেখিত) ‘গো-হারা’ হারিয়েছেন পাপিয়া। আর জয়ের পরেই অরূপ বিশ্বাসের আমলের ‘কুখ্যাত’ মেসি-কাণ্ড নিয়ে সুর চড়িয়েছেন তিনি।
ফিরে দেখা মেসিকাণ্ড:
২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ফুটবল কিংবদন্তির নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে বারবার তাঁর কাঁধে ও কোমরে হাত দিচ্ছিলেন। ভিভিআইপি জোনে নিয়ম বহির্ভূতভাবে মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠদের অনুপ্রবেশ ঘটে।
এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লিওনেল মেসির টিম থেকে অফিশিয়াল ইমেল পাঠানো হয়। সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ে ইতিমধ্যেই দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীকে।
পাপিয়ার ডাবল ধামাকা:
টলিউড সিন্ডিকেট মুক্ত করার পাশাপাশি কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের বড় আশ্বাস দিয়েছেন পাপিয়া অধিকারী। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর তৈরি করা যাবতীয় বিতর্ক ধুয়ে মুছে সাফ করে, তিনি আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে আরও একবার লিওনেল মেসিকে কলকাতায় নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। টলিপাড়া থেকে খেলার মাঠ—নতুন বিধায়কের এই অ্যাকশন প্ল্যান এখন রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে বড় ‘টক অফ দ্য টাউন’।