ভারত-রাশিয়ার যৌথ সৃষ্টি, এখন ভারতের কাছেই মিসাইল চাইছে রাশিয়া! ব্রহ্মোসের সাফল্যের রহস্য কী?

একসময় বিশ্বের অন্যতম বড় অস্ত্র আমদানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিত ভারত, আজ প্রতিরক্ষা রফতানির ময়দানে এক নতুন ইতিহাস গড়ছে। ভারতের তৈরি সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল ‘ব্রহ্মোস’ এখন বিশ্ব বাজারে এক অনন্য সাফল্যের নাম। শুধু প্রতিবেশী দেশই নয়, খোদ রাশিয়া পর্যন্ত ভারতের তৈরি এই বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
কেন ব্রহ্মোসের এত চাহিদা?
ব্রহ্মোসের অবিশ্বাস্য গতি এবং নির্ভুল লক্ষ্যভেদের ক্ষমতা একে আধুনিক যুদ্ধের এক অপরিহার্য মারণাস্ত্র করে তুলেছে। বর্তমানে বিশ্বের ১৪টিরও বেশি দেশ এই ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য ভারতের দরজায় কড়া নাড়ছে।
কোন কোন দেশে বাড়ছে ব্রহ্মোসের প্রভাব?
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া: এই অঞ্চলের দেশগুলো ব্রহ্মোসের সবথেকে বড় ক্রেতা। ফিলিপাইন ৩,২০০ কোটি টাকার চুক্তির পর ইতিমধ্যেই সরবরাহ পেয়েছে। ইন্দোনেশিয়া এবং ভিয়েতনাম প্রায় ৫,৩০০ কোটি টাকার বড় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এছাড়াও থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
মধ্যপ্রাচ্য: সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই) নিজেদের সমুদ্র ও আকাশসীমার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ভারতের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালাচ্ছে।
ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা: দক্ষিণ আমেরিকার চিলি এবং আফ্রিকার দক্ষিণ আফ্রিকাও তাদের সামরিক শক্তি বাড়াতে ব্রহ্মোসকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
সবচেয়ে বড় চমক: রাশিয়া কেন আগ্রহী?
সবচেয়ে কৌতূহলের বিষয় হলো, ভারত ও রাশিয়া যৌথ উদ্যোগে এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করলেও, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে খোদ রাশিয়া ভারতের কাছ থেকে ব্রহ্মোস কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এটি ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের এক বড় স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কেন এটি ভারতের জন্য বড় মাইলফলক?
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় ব্রহ্মোসের এই বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা ভারতের অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে। একদিকে নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অন্যদিকে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন—দুই ক্ষেত্রেই ভারত এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে চলেছে।
ব্রহ্মোসের এই সাফল্যের হাত ধরে ভারত যে ভবিষ্যতে বিশ্বের প্রতিরক্ষা বাজারের প্রধান নিয়ন্ত্রক হতে চলেছে, তা এখন কার্যত সময়ের অপেক্ষা।