রামমন্দিরে কোটি টাকার দুর্নীতি! ১৫০ পাতার বিস্ফোরক রিপোর্ট জমা দিতে চলেছে সিট, বড় বিপাকে ট্রাস্ট কর্তারা

রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদানের অর্থ এবং গয়না চুরির ঘটনায় যোগী সরকারের গঠন করা বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) এখন চূড়ান্ত রিপোর্টের দ্বারপ্রান্তে। সূত্রের খবর, দুর্নীতির তদন্তে প্রায় ১৫০ পাতার একটি চাঞ্চল্যকর ‘অন্তর্বর্তী রিপোর্ট’ প্রস্তুত করা হয়েছে, যা রবিবার রাত অথবা সোমবারের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের দফতরে জমা দেওয়া হতে পারে। রিপোর্টে কী রয়েছে? এই রিপোর্টে কেবল দুর্নীতির খতিয়ানই নয়, বরং শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের একাধিক শীর্ষ পদাধিকারীর নাম এফআইআর (FIR)-এ অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, ট্রাস্টের অন্দরের মদত ছাড়া মন্দির থেকে দিনের পর দিন বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও মহামূল্যবান গয়না গায়েব হওয়া অসম্ভব। কড়া নিষেধাজ্ঞা: তদন্তের স্বার্থে সিট কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে। তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন কোনো ট্রাস্ট সদস্য বা মন্দির ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত উচ্চপদস্থ আধিকারিক অযোধ্যা ছেড়ে বাইরে যেতে পারবেন না। যেকোনো প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁদের সশরীরে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দুর্নীতির অকাট্য প্রমাণ: গোয়েন্দাদের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মন্দিরের গর্ভগৃহে টাকা গোনার সময় কয়েকজন কর্মী অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে নগদ টাকা নিজেদের পকেটে পুরছেন। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত লবকুশ মিশ্রের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই মামলায় রামশঙ্কর যাদব ওরফে তিন্নু যাদব, লবকুশ মিশ্র, অনুকল্প মিশ্রসহ মোট ৫ জনকে মূল সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রশাসনিক পরিবর্তনের সুপারিশ: রিপোর্টে চোর ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে: পূর্ণসময়ের সিইও (CEO): কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের আদলে অযোধ্যা রামমন্দিরেও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একজন সরকারি সিইও নিয়োগের সুপারিশ। কর্তা অপসারণ: ট্রাস্টের নৈতিক দায়ভার নিয়ে বর্তমান প্রভাবশালী পদাধিকারীদের অবিলম্বে সরানোর দাবি। গত ১৩ জুন গঠিত এই তিন সদস্যের সিট টিম ম্যারাথন জেরার পর নিশ্চিত হয়েছে যে, মন্দিরের অনুদান প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম চলেছে। সোমবার রিপোর্ট জমা পড়ার পরেই অযোধ্যার মন্দির ব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক মহলে বড়সড় রদবদল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *