‘পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন দু’বারই!’ শেষ পর্যন্ত কেন মন্ত্রিত্ব ছাড়তে বাধ্য হলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান? সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

দেশজুড়ে নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস কাণ্ড এবং লাগাতার তীব্র ছাত্র আন্দোলনের জেরে অবশেষে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এই হেভিওয়েট মন্ত্রীর পদত্যাগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হওয়া শোরগোলের মধ্যেই এর নেপথ্যে থাকা একাধিক অজানা ও চাঞ্চল্যকর তথ্য এবার প্রকাশ্যে এসেছে। রাজনৈতিক সূত্রে মিলছে চাঞ্চল্যকর খবর, এর আগেও নাকি দু’বার নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি, কিন্তু সেই সময় সরকারের উচ্চমহল থেকে তা গ্রহণ করা হয়নি। কিন্তু হঠাৎ ঠিক কী এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো, যার জেরে শেষ পর্যন্ত তাঁর পদত্যাগপত্র মঞ্জুর করতে বাধ্য হলো সরকার?
প্রথমবারে কেন আটকেছিল পদত্যাগ?
সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই যখন নিট প্রশ্নফাঁস ও দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলনের তীব্রতা মারাত্মক আকার ধারণ করে, তখন সরকারের অন্দরে একটি উচ্চ পর্যায়ের জরুরি বৈঠক বসে। সেই বৈঠকেই নৈতিক দায়িত্ব স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
কিন্তু সেই সময় মোদী সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। মন্ত্রীদের একাঞ্চলের যুক্তি ছিল, সংকট তৈরি হলে দায়িত্ব এড়িয়ে পালিয়ে যাওয়া তার স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। সরকারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সমস্যাটির মূল কারণ খুঁজে বের করে তার সঠিক ও কঠোর প্রতিকার করা। সেই কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কারের রূপরেখা প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়ে সেবার তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি সরকার।
হঠাৎ কেন বদলে গেল সিদ্ধান্ত?
তবে পরবর্তীতে পরিস্থিতির দ্রুত ও ভয়ঙ্কর অবনতি ঘটে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে ফের নতুন করে সংসদ চলো অভিযানের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। ঠিক তখনই দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির একটি বিস্ফোরক রিপোর্ট সরকারের টনক নড়াতে বাধ্য করে।
গোয়েন্দা সূত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে যে, দেশজুড়ে চলা এই ছাত্র আন্দোলনের একাংশের আড়ালে সুযোগসন্ধানী ও দেশবিরোধী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী শক্তি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। শত শত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল ট্র্যাক করে দেখা যায়, যেগুলি সরাসরি পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হচ্ছিল। এমনকি অতীতে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ও এই অ্যাকাউন্টগুলি ভারতের বিরুদ্ধে সক্রিয় ছিল এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ভুয়ো তথ্য ও উস্কানিমূলক জনমত তৈরি করতে বড় ভূমিকা নিয়েছিল।
পাশাপাশি, দিল্লি পুলিশের ফেসিয়াল রেকগনিশন সিস্টেম (FRS)-এর ক্যামেরায় ধরা পড়ে এক উদ্বেগজনক ছবি। যন্তর মন্তর ও প্রতিবাদস্থলের আশপাশের এলাকায় ২০ থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে একাধিক কুখ্যাত অপরাধী ও দাগী সমাজবিরোধীকে অবাধে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়, যাদের বিরুদ্ধে অতীতে বহু গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে।
পড়ুয়াদের সুরক্ষায় বড় সিদ্ধান্ত
ছাত্র আন্দোলনের স্বতঃস্ফূর্ত ভিড়কে কাজে লাগিয়ে কোনো বড়সড় নাশকতা বা দেশবিরোধী শক্তি যাতে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ঢাল বানিয়ে দেশের নিরাপত্তা ও শান্তি বিঘ্নিত করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত কড়া অবস্থান নেয় সরকার। আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও আইনি জটিলতা এড়াতে এবং পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাওয়ার আগেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।