নিটের পর এবার রাজধানীতে বড় প্রতিবাদের ঝড়! ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল নিয়ে সরাসরি সংসদ অভিযানের ডাক

দেশজুড়ে নিট (NEET) কেলেঙ্কারি ও উত্তপ্ত ছাত্র আন্দোলনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আরও এক বড়সড় প্রতিবাদের হুংকার শোনা গেল। ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল বা ই২০ (E20) জ্বালানি চালুর তীব্র বিরোধিতা করে আগামী ৪ আগস্ট সরাসরি সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছে ‘দিল্লি ট্যাক্সি অ্যান্ড ট্যুরিস্ট ট্রান্সপোর্টার্স অ্যান্ড ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন’। এই মেগা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের রাজনৈতিক ও পরিবহন মহলে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হতে পারে বলে জোরালো আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কেন এই প্রতিবাদের ডাক?
সম্প্রতি সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ সাংবাদিক বৈঠক করে এই চরম আন্দোলনের ঘোষণা করা হয়। সেই বৈঠকে সংগঠনের সভাপতি সঞ্জয় সম্রাট অত্যন্ত অভিনব কায়দায় প্রতিবাদ জানিয়ে হাতে আখের ছিবড়ে ও আস্ত আখ নিয়ে উপস্থিত হন।
পরিবহন ব্যবসায়ীদের মূল অভিযোগ, ই২০ জ্বালানি ব্যবহারের ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ গাড়ি মালিক, ট্যাক্সি চালক ও বাণিজ্যিক বাহন ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এই বিশেষ জ্বালানি ব্যবহারের জেরে গাড়িগুলির মাইলেজ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে, গাড়ির যন্ত্রাংশ রক্ষণাবেক্ষণের খরচ অতিরিক্ত পরিমাণে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সার্বিকভাবে ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পুরনো গাড়ির ক্ষেত্রে বড় বিপত্তি
সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে যে, ২০১৫ সালের আগের মডেলের বহু গাড়ি বা চারচাকা বাহন ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত এই পেট্রোল ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়নি। মূলত নতুন প্রজন্মের কিছু নির্দিষ্ট হাই-টেক মডেলের গাড়ির জন্যই এই ধরনের জ্বালানি প্রযোজ্য। কিন্তু কোনো রকম সুনির্দিষ্ট বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই জোর করে সব ধরনের পুরনো গাড়িতে এই জ্বালানি চাপিয়ে দেওয়ার ফলে সাধারণ গাড়িচালক ও মালিকরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।
আর এই সমস্ত পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও বঞ্চনাকে সামনে রেখেই আগামী ৪ আগস্ট সংসদ ভবনের দিকে চলো অভিযানের ডাক দিয়েছে পরিবহণ ব্যবসায়ীদের এই সংগঠন। এখন দেখার বিষয়, সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে নড়েচড়ে বসে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়।