২০২৯-এর লক্ষ্যে বড় প্রস্তুতি! নতুন ইভিএমের জন্য ৫০০ কোটি চাইল নির্বাচন কমিশন

২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় বড় ধরনের আধুনিকীকরণের পথে হাঁটছে নির্বাচন কমিশন অফ ইন্ডিয়া (ECI)। সূত্রের খবর, আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নতুন প্রজন্মের ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (EVM) কেনার জন্য কেন্দ্র সরকারের কাছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করার দাবি জানিয়েছে কমিশন। আর এই বিপুল অর্থের চাহিদা ঘিরেই শুরু হয়েছে ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ (One Nation, One Election) নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা।

কেন এই বিপুল বরাদ্দ? নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনায় রয়েছে বর্তমান ভোটিং সিস্টেমের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধন। ২০২৯ সালের ভোটকে লক্ষ্য করে আধুনিক ও নিরাপদ ইভিএম ব্যবহারের জন্য কমিশন একটি বিশেষ রোডম্যাপ তৈরি করেছে। প্রযুক্তির ক্রমাগত পরিবর্তন এবং সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই কমিশন এই উন্নত মানের মেশিনগুলি কেনার প্রয়োজনীয়তা বোধ করছে।

‘এক দেশ, এক নির্বাচন’-এর কি ইঙ্গিত? কমিশনের এই হঠাৎ ৫০০ কোটি টাকা চাওয়ার ঘটনাটিকে অনেকেই কাকতালীয় বলে মনে করছেন না। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ নীতি বাস্তবায়নের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, কমিশনের এই প্রস্তুতি সেই প্রক্রিয়ারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে পারে বলে ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। যদি পুরো দেশে একই সময়ে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে বিশাল সংখ্যক ইভিএমের প্রয়োজন হবে। সেই বিপুল চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই কমিশন আগেভাগে প্রস্তুতি সেরে রাখতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে।

কমিশনের পরিকল্পনা:

  • প্রযুক্তির আধুনিকীকরণ: পুরনো ইভিএম সরিয়ে সম্পূর্ণ নির্ভুল ও সুরক্ষিত নতুন মেশিন বসানোর লক্ষ্য।

  • বিপুল চাহিদা: যদি একই সঙ্গে দেশজুড়ে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়, তবে বর্তমানে থাকা ইভিএমের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। ৫০০ কোটির এই বাজেটে সেই ঘাটতি মেটানোই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।

এখন দেখার বিষয়, কমিশন যে ৫০০ কোটি টাকার প্রস্তাব পাঠিয়েছে, কেন্দ্র সরকার তাতে কতটা দ্রুত সিলমোহর দেয় এবং আগামী দিনে ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’-এর পথ প্রশস্ত হয় কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *