‘হাসপাতাল ঘুরিয়ে বাড়ি পাঠাও!’ কাশ্মীর-আজাদি স্লোগান নিয়ে শমীক ভট্টাচার্যের বিস্ফোরক মন্তব্যে চরম বিতর্ক

কাশ্মীর ও ‘আজাদি’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলার রাজ্য রাজনীতি। প্রকাশ্য রাজপথে দাঁড়িয়ে দেশবিরোধী বা কাশ্মীর বিচ্ছিন্নতার পক্ষে স্লোগান দেওয়া নিয়ে অত্যন্ত কড়া হুঙ্কার ছাড়লেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। অন্যদিকে, তাঁর এই বিতর্কিত মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। দুপক্ষের এই আক্রমণ-পালটা আক্রমণে বর্তমানে বাংলার রাজনৈতিক পারদ চড়েছে চরমে।

শমীক ভট্টাচার্যের বিস্ফোরক হুঙ্কার

রবিবার কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষে কলকাতার বিটি রোডে শহিদ কণাদ ভট্টাচার্যকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আয়োজিত এক জনসভায় অত্যন্ত জোরালো ভাষায় সরব হন শমীক ভট্টাচার্য। সম্প্রতি নিট (NEET) কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে কলকাতার রাজপথে হওয়া ছাত্রমিছিলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন যে, কিছু অপ্রাসঙ্গিক রাজনৈতিক শক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ‘আজাদি’র স্লোগান তুলে সমাজে ফের নিজেদের প্রাসঙ্গিক করে তোলার চেষ্টা করছে। ওই মিছিলেই পুলিশ এবং সংবাদমাধ্যম আক্রান্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এরপরই রাজ্য পুলিশকে কঠোর বার্তা দিয়ে শমীক বলেন, “রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাশ্মীরের আজাদি বা ভারত ভাঙার স্লোগান দিলে পুলিশ যেন কোনোভাবেই তাদের রেয়াত না করে। অভিযুক্তদের এমনভাবে শায়েস্তা করা হোক, যাতে তারা সোজা হয়ে হাঁটতে না পারে, প্রয়োজনে তাদের হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ঘুরে তবেই বাড়ি পাঠানো উচিত।” রাজ্যে নতুন করে ‘র‌্যাডিকালাইজেশন’ বা চরমপন্থার প্রবণতা মাথাচাড়া দিচ্ছে অভিযোগ করে তিনি স্পষ্ট জানান যে, ৩৭০ ধারা বাতিলের বিরোধিতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আক্রমণ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে মুর্শিদাবাদের ঘটনার প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি।

কুণাল ঘোষের পাল্টা আক্রমণ

বিজেপি রাজ্য সভাপতির এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের প্রধান বা নেতা হয়ে কেউ এমন প্রকাশ্যে হিংসার প্ররোচনা বা বেআইনি নিদান দিতে পারেন না।

কুণাল বলেন, ভারতে বাস করে দেশের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া বা দেশবিরোধী কথা বলা কখনই সমর্থনযোগ্য নয়। যদি কেউ এ ধরনের অপরাধ করে, তবে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রশাসনের দায়িত্ব। কিন্তু কাউকে মারধর করে হাসপাতালে পাঠানোর নিদান দেওয়া মানে সরাসরি নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া এবং রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়ে অরাজকতা তৈরি করা। এটি একটি গণতান্ত্রিক দেশ, তাই আইন ও আদালতের মাধ্যমেই সমস্ত পদক্ষেপ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

ধর্মতলার অশান্তির রেশ

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার নিট বিক্ষোভের জেরে কলকাতার ধর্মতলা চত্বর এবং ডোরিনা ক্রসিং রণক্ষেত্রের রূপ নিয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বিজেপি ও শাসকদলের নেতাদের এই বাকযুদ্ধে রাজ্য রাজনীতিতে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *